parbattanews

বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও নাচে-গানে পানছড়িতে বর্ষবরণ

NEW YEA

উপজেলা প্রতিনিধি, পানছড়ি :

কাঁশ বন বেষ্ঠিত পাহাড়ী হ্রদ আর সবুজ অরণ্যের বুক চিরে গড়ে উঠেছে পানছড়ি উপজেলা। আর এই উপজেলা দিয়েই এঁকে-বেকে বেয়ে গেছে চেংগী নদী। প্রশাসনের এক মহান উদ্যোগে পানছড়ি শান্তিপুর এলাকায় চেংঙ্গী নদীর বুকে বসানো হয়েছে রাবার ড্যাম। এই রাবার ড্যাম এলাকা বাংলা নববর্ষে যেন পানছড়িকে নতুন রূপে পরিচয় করে দিয়েছে। হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারনায় এবারের বর্ষবরণ যেন অতীতের সব অনুষ্ঠানকে হার মানিয়েছে। শুধু তাই নয় পুরো পানছড়ি এমন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল যা এক নয়নাভিরাম বর্ষবরণ।

পানছড়ি উপজেলা প্রশাসন, ইসলামপুর প্রজন্ম পাঠাগার, পানছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মোল্লাপাড়া, চৌধুরী পাড়া, স্থানীয় যুব কল্যাণ সংঘের শোভা যাত্রা, র‌্যালী ও দৃষ্টিনন্দন নাচ-গানে অনাবিল এক আনন্দে মেতে উঠে প্রত্যন্ত এই পানছড়ি সদর উপজেলা থেকে শুরু করে প্রাচীন জনপদগুলোও। নববর্ষ বরণে সকাল আটটায় উপজেলা চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মুর্শিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরবর্তীতে ব্যান্ড পার্টি ও বাহারী রংঙের পোশাক পরে বর্নাঢ্য র‌্যালী করে পানছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। মোল্লাপাড়া, স্থানীয় যুব কল্যাণ পরিষদ ট্রাক ও ট্রাক্টর নিয়ে বের করে বর্ণাঢ্য র‌্যালী। ঢাক আর ঢোলের আওয়াজে চারিদিক মুখরিত করে রাখে তারা। অনুষ্ঠানের প্রাণবন্ত র‌্যালী নিয়ে আসে ইসলামপুর প্রজন্ম পাঠাগার। বন্ধুক কাঁধে মুক্তিযোদ্ধা, হারিয়ে যাওয়া ঘোড়ায় চড়া, দুই শিশুর জামাই-বৌ সাজা, হারিয়ে যাওয়া পালকি কাঁধে বধু শ্বশুর বাড়ি যাওয়া, সিংহাসনে বসা রাজা মশাই, ক্রিকেটার, লাঙ্গল কাঁধে চাষী ও দেশীয় একতারা-সারিন্দা ইত্যাদি সাজে ইসলামপুর প্রজন্ম পাঠাগারের অপূর্ব র‌্যালী সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

সর্বশেষে চৌধুরী পাড়ার ক্যাপ্রুচাই মারমাদের র‌্যালীটিও নজর কেড়ে নেয়। র‌্যালী শেষে পানতা-ইলিশের আয়োজনও হয় বিভিন্ন জায়গায়। মোট কথা এবারের বর্ষবরণ র‌্যালী, নাচ-গান, পানতা-ইলিশ পানছড়ির সর্বত্র এক অনাবিল আনন্দের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। যা উপজেলা চেয়ারম্যান সর্বোত্তম চাকমা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মুর্শিদুল ইসলামের উপস্থিতি যেন প্রাণের সঞ্চার পেয়েছে আয়োজকরা। তাছাড়া ছোট-ছোট কোমলমতি শিশুরা মা-বাবা, নানা-নানী ও দাদা-দাদীর কোলে চড়ে উপভোগ করেছে বর্ষবরণের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলী।

Exit mobile version