নাইক্ষ্যংছড়ি প্রধিনিধি:
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র এমপি বলেছেন, বাংলাদেশকে যারা তলাবিহীন ঝুঁড়ি বলেছিল তারা আজকে আমাদের দেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল একটি সুখী সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা গড়ে তোলার। এদেশের সকল দু:খী মেহনতী মানুষের মুখে হাসি ফুটানো অর্থাৎ মানুষের মৌলিক অধিকার অর্জণ করার। স্বল্প সময়ে বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে না পারলেও তারই মানসকন্যা শেখ হাসিনা প্রতিটি ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। বাংলাদেশের উন্নয়নে যে গতি তিনি সৃষ্টি করেছেন তাতে সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। পার্বত্য তিন জেলায় মৎস্য ক্রিক নির্মাণে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের পরামর্শকে প্রাধান্য দিয়ে টেকসই ক্রিক নির্মাণে তিনি প্রতিশ্রতি দেন।
মঙ্গলবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রাণিসম্পদ গবেষনা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এর আঞ্চলিক কেন্দ্রে আধুনিক পদ্ধতিতে দেশি ভেড়া পালন প্রশিক্ষণ এবং খামারীদের মাঝে ভেড়া বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড.তালুকদার নুরুন্নাহার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, সাড়ে ৭ কোটি মানুষ নিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। তখনও আমাদের খাদ্যে ঘাটতি ছিল। আজকে দেশে প্রায় ষোল কোটি মানুষ। এ ষোল কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব পূরণ করার পরও আজ বিদেশে খাদ্য রপ্তানি হচ্ছে। সরকার জনগণের উন্নয়নে যা কিছু সাহায্য করছেন তা সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। একটি সময় নাইক্ষ্যংছড়িতে একটি প্রাইমারি স্কুল চলতনা। আজকে হাইস্কুল, কলেজ, ডিগ্রি কলেজের পর এখন টেকনিক্যাল কলেজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। মহাজোট সরকারের উন্নয়নে আজ দোছড়ি-সোনাইছড়ির মত দুর্গম ইউনিয়ন গুলোতে সহজ যাতায়ত করতে পারছে। নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলে অন্যকেও সাহায্য দেয়ার মনমানসিকতা সৃষ্টি করার আহ্বান জানান। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আগামীতে তিন পার্বত্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পরামর্শক্রমে পাহাড়ী ঝিরিতে ক্রিক নির্মাণের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে অবদান রাখার সহযোগিতা চান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. এরশাদুজ্জামান।
এ সময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের লামা সার্কেল অফিসার এএসপি আল মাহমুদ শাকিল, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাদেক হোসেন চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু শাফায়াৎ মুহম্মদ শাহে দুল ইসলাম, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল খায়ের, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব মো. ইমরান, যুগ্ম সদস্য সচিব তসলিম ইকবাল চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা মো. শফি উল্লাহ, আবু তাহের কোম্পানী, ডা. মো. ইসমাইল, যুবলীগ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার, ছাত্রলীগ সভাপতি চোচু মং মার্মা, কৃষকলীগ সভাপতি মোস্তফা কামাল লালু, সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মামুন শিমুল, আওয়ামী লীগ নেতা এ্যানিং মার্মা, যুবনেতা ছৈয়দ আলম, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আলম কোম্পানী, মো. হাবিব উল্লাহ প্রমূখ। পরে অনুষ্ঠান শেষে দুই প্রতিমন্ত্রী খামারীদের মাঝে ভেড়া বিতরণ বিতরণ করেন।