parbattanews

মিয়ানমারে ৭০ কোটি টাকার মাদক জব্দ, আরাকান আর্মির সম্পৃক্ততার অভিযোগ

মিয়ানমারের ম্যাগওয়ে অঞ্চলের নাতমৌ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ মাদকের চালান জব্দের ঘটনাটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন মিয়ানমার কিয়াত বা ৭০ কোটি টাকা মূল্যের এই চালানটি আরাকান আর্মির উচ্চপদস্থ নেতার কাছে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বিশ্লেষক ও সীমান্ত বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ, এই বিশাল পরিমাণ মাদকের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার করা। এবং এর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির এর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

মিয়ানমারের ম্যাগওয়ে অঞ্চলের ন্যাটমাউক টাউনশিপে সম্প্রতি এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন কিয়াত মূল্যের মাদক জব্দ করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে প্রায় ৭.৮ মিলিয়ন ইয়াবা-জাতীয় সিনথেটিক ট্যাবলেট ছিল, যা দুটি গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে, তবে মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মাদক চালানটি ইয়েথিন টাউনশিপ থেকে যাত্রা শুরু করে ন্যাটমাউক ও কালে হয়ে অন টাউনশিপে যাওয়ার কথা ছিল—যা রাখাইন রাজ্যে-এ অবস্থিত এবং আরাকান আর্মির একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

যদিও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মাদকগুলো দেশের অভ্যন্তরেই বিতরণের জন্য ছিল, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অ্যান টাউনশিপের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় এটি বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি হওয়ায়, চালানটি সীমান্ত পেরিয়ে পাচারের পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মাদকগুলো ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে নাফ নদী বা দুর্গম সীমান্তপথ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হতে পারত—যা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের পরিচিত রুট।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের সামরিক কার্যক্রম চালাতে এবং অস্ত্র সংগ্রহে অর্থ জোগাড়ের জন্য মাদক পাচারের মতো অবৈধ বাণিজ্যের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে।

একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, “এত বড় আকারের মাদক চালান শুধুমাত্র স্থানীয় ব্যবহারের জন্য হওয়ার সম্ভাবনা কম। এর ধরণ স্পষ্টভাবে সীমান্তপারের পাচারের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে বাংলাদেশ একটি প্রধান গন্তব্য হতে পারে।”

এর আগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়নে মাদক পাচারের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, এই জব্দকৃত চালানটি বৃহত্তর একটি নেটওয়ার্কের সামান্য অংশমাত্র হতে পারে। যদি এই ধরনের পাচার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তাহলে তা বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আরও জড়িতদের ধরতে তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই ঘটনা বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা, বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় মাদক প্রবাহ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে।

উৎসঃ (আরাকান ইন্ডিপেন্ডেন্ট নেটওয়ার্ক ফেসবুক পোস্ট)

Exit mobile version