
স্টাফ রিপোর্টার:
বান্দরবানের পাহাড়ে জুম চাষের পরিবর্তে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে বুকসেলাই রাংগোয়াই আমসহ মিশ্র ফলের চাষ। জেলায় আম্রপালি, হাড়ি ভাঙ্গা ও রুপালী জাতের আম চাষ করা হলেও রাংগোয়াইয়ের চাষ সবচেয়ে বেশী। পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকূলে হওয়ায় এবং খেতে সুস্বাদু, তিন-চার বছরের মধ্যে ফলন পাওয়ায় ও পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় পাহড়ে রাংগোয়াই আম চাষের বিল্পব ঘটেছে। মায়ানমারের জাত হিসেবে পরিচিত বুকসেলাই (রাংগোয়াই) আমের চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পাহাড়ী জন পদে।
কৃষি বিভাগের মতে, স্থানীয়ভাবে বান্দরবান জেলায় চার ধরণের রাংগোয়াই আমের জাত চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে একটি আগাম জাত হিসেবে পরিচিত, আরেকটি শাঁস আঁশযুক্ত। অন্য দুটির একটির মাংস লালচে-হলুদ এবং আরেকটি নাবি জাত। যেটি সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়। খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে বুকসেলাই আমগুলোর চাহিদাও রয়েছে প্রচুর।
তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবান জেলাতেই রাংগোয়াই জাতের আমের চাষ সবচেয়ে বেশি। আমের এই জাতটি জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি-থানছি সীমান্ত হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মায়ানমার থেকে এদেশে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রায় ১৫/২০ বছর আগে পাহাড়ীরা এই আম মায়ানমারের পাহাড়ী অঞ্চল থেকে পার্বত্য জেলা বান্দরবান নিয়ে আসে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে কৃষি বিভাগের কাছেও রাংগোয়াই আম চাষ কখন থেকে শুরু হয়েছে সেটির সঠিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বান্দরবান কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন জানান, স্থানীয় জাতগুলোর তুলনায় বুকসেলাই জাতের আমের পোকার আক্রমণ অনেক কম। যার কারণে স্থানীয় পাহাড়ী আম চাষীরা আমটি চাষ করে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হতে পারছেন। মায়ানমারের আমের এই জাতটি বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় স্থানীয় ভাবে বর্মি বা বার্মায়া আম নামে পরিচিত। অনেকে রাংগোয়াইসি বললেও চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে ভোক্তাদের কাছে এটি বার্মিজ এবং বুকসেলাই রাংগোয়াই আম নামে পরিচিত।
মায়ানমারের বার্মি ভাষায় রাংগোয়াই অর্থ বুকে শিরধারার মতো সেলাই আর ‘সি’ অর্থ ফল, অর্থাৎ রাংগোয়াইসি মানে ‘বুকসেলাই ফল’। সম্ভবত ফলের গড়নের সঙ্গে সাদৃশ্যর কারণেই এমন নামকরণ করা হয়েছে। খেতে খুবই সুস্বাদু, পোকার আক্রমণ কম এবং স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় এই আমের চাষ বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বান্দরবান জেলায় পাঁচ হাজার পাঁচশত আটার হেক্টর পাহাড়ী ঢালু জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ৭৭ হাজার ২৫২ মেট্রিক টন। তার মধ্যে বুকসেলাই আমের চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি ৫০/৬০ টাকায় ক্রয় করে বাজারে ৭০/৮০ টাকায় বিক্রি করছেন।
বান্দরবান জেলার হাট-বাজারগুলোতে এখন বুকসেলাই করা আমে সয়লাব হয়ে গেছে। স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি প্রতি দিন বান্দরবান থেকে ৬/৭ মিনি ট্রাক আম চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় আম চাষী জিমলিয়ান বম ও চার্লি মারমা বলেন, পাহাড়ে স্বল্প সময়ে রাংগোয়াই আম দ্রুত বেড়েছে। সঠিক সময়ে সার ও কীটনাশক স্প্রে করাই অন্য বছরের চেয়ে এবার ফল ভাল হয়েছে এবং বাজার দরও ভাল।
স্থানীয় আম ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, বিভিন্ন বাগানের মালিক থেকে সাত লক্ষ টাকায় নয়টি আম বাগান কিনে নিয়েছি। এখান থেকে আমি কিনে চট্টগ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছি।
এদিকে বিভিন্ন ফল চাষী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন জেলায় একটিও হিমাগার না থাকায় মধু মাসের বিভিন্ন ফল সংরক্ষণ করতে না পারায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।