স্টাফ রিপোর্টার :
শীতের শুরুতেই বান্দরবানে ঝেঁকে বসেছে শীত। সমতলের চেয়ে পাহাড়ে অনেক আগেই শীতের আগমন ঘটে থাকে এবং সমতলের চেয়ে পাহাড়ে শীতের প্রকোপও বেশী থাকে। অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতেই শীত বাড়তে শুরু করেছে। আর তাই চিন্তায় পড়েছে জেলার দুর্গম এলাকার হতদরিদ্র মানুষগুলো। শীতের আগমন উপলক্ষে শহরের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে দেশী-বিদেশী শীতের গরম কাপড়। জেলার অধিকাংশ মানুষ নিম্ম আয়ের হওয়ায় তাদের এক মাত্র ভরসা বিদেশী পুরানো গরম কাপড়। গতকাল রবিবার ছিল জেলা শহরে বাজার বার। এই দিনে জেলার প্রত্যান্তঅঞ্চলের বসবাসরত পাহাড়ীরা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্র ক্রয়ের জন্য শহরে আসে।
সরজমিনে দেখা যায়, শহরের চৌধুরী মার্কেট থেকে মধ্যম পাড়া পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে রয়েছে তৈরী করা কাপড়ের দোকান। শীতের আগমন উপলক্ষে অধিকাংশ দোকানগুলোতে নতুন তৈরী করা কাপড়ের পাশাপাশি বিদেশী পুরানো কাপড় শোভা পাচ্ছে। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাস্তার পাশে বিদেশী পুরানো কাপড় নিয়ে বসেছে। আর নিম্ম আয়ের জনসাধারণরা শীত নিবারণ করতে কাপড় ক্রয়ের উদ্দ্যেশ্য ঘিরে ধরেছে সেই দোকানগুলোকে। নতুন গরম কাপড়ের চেয়ে অনেক সস্তা ও শীত নিবারন করা যায় বলে পুরানো কাপড়ের ক্রেতার সংখ্যা চোখে পড়ার মত দেখা যায়। আর বিদেশী পুরানো কাপড়ের সবচেয়ে বেশী গ্রাহক হচ্ছে নিম্ম আয়ের মানুষ। তাদের এক মাত্র ভরসা বিদেশী গরম পুড়ানো কাপড়।
জেলা শহরের চেয়ে দুর্গম এলাকায় শীতের প্রকোপ আরো বেশী। দুর্গম এলাকার মানুষ নিম্ম আয়ের হওয়ায় এদের কাছে পুরানো কাপড়ই একমাত্র ভরসা। পরিবারের কর্তা-কত্রীরা বাজার করতে আসায় তারা পরিবারের ছোট-বড় সকল সদস্যদের জন্য নন্যুতম একটি করে গরম কাপড় ক্রয় করতে দেখা যায়। গায়ের গরম কাপড়ের পাশাপশি পুরানো কম্বল, বেড়শীট, ছোট ছেলে মেয়েদের হরেক রকম কাপড়ও দেখা যায়। পুরানো কাপড়েরর মধ্য রয়েছে পুরুষ ও ছেলেদের জেকেট, জিন্স শার্ট-প্যান্ট, গরম কম্বল, ছোট শিশু ও ছেলেমেয়েদের হরেক রকমের কাপড়।
কাপড় বিক্রেতা আবু তাহের জানান, প্রতি বছর শীতের মৌসুমে বিদেশী পুরানো কাপড়ের কদর বেশী থাকে। তাই ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী কাপড় এনে থাকেন। প্রতি বছর জেলা সদর, রুমা, রোয়ংছড়ি ও থানছি এলাকায় নন্যুতম ১০০ থেকে ১২০ বান্ডিল কাপড় বিক্রি করে থাকেন। এছাড়া দেশী গরম কাপড়ের তুলনায় বিদেশী গরম কাপড় মানের দিক থেকে উন্নত এবং সস্তায় পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, গরীব মানুষের পাশাপশি উচু তলার লোকজনেরও এ কাপড়ের চাহিদা রয়েছে।
অন্যদিকে বম সম্প্রদায়ের পুরানো কাপরের উলের সুতা দিয়ে তৈরি চাদর, মাফলার ও বেডশিডের চাহিদাও আছে ব্যাপক। এ চাদর বেশ উন্নতমানের এবং দামেও সস্তা। দরিদ্র মানুষের জন্য দুর্গম অঞ্চলের হস্তচালিত তৈরি এসব শীতের চাদরের চাহিদাও অনেক বেশী।
