বান্দরবানের রুমার দুর্গম এলাকায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে কপাও ম্রো (১৩) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে ৪নং গ্যালেংগা ইউনিয়নের অংলাই পাড়া গ্রামে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। নিহত কিশোর কপাও ম্রো (১৩)। সে গ্যালেংগা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের অংলাই পাড়া গ্রামের চন্দ্রয় ম্রোর ছেলে।
বিজিবি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম ওই এলাকায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ছিল কিশোর কপাও ম্রো। পরে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিশোরের মৃত্যু হয়। তবে ওই ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় ৫-১৬ বছর বয়সী ১২ জন শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত রয়েছে। সেসব রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবি আরও জানিয়েছে, হামে আক্রান্তের খবর পেয়ে ৩৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. ইয়াসির আরাফাতের নির্দেশে একটি দল হামে আক্রান্ত পাড়াগুলোতে রওনা দেয়। সেখানে পৌঁছালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের শনাক্ত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান বিজিবি সদস্যরা।
গ্যালেংগা ইউপি চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো বলেন, হামের উপসর্গে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গ্রামে হামে আক্রান্তের খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা এসে তাদের শনাক্ত করেন। পরে নৌকাযোগে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
৩৮ বিজিবির বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন বলেন, রুমার দুর্গম গ্যালেংগা ইউনিয়নে হামের উপসর্গে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর গ্রামে বিজিবির টিম পাঠানো হয়। দুর্গম এলাকায় যেহেতু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, সেহেতু প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নৌকাযোগে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার জনগণের কল্যাণে বিজিবির এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
