বান্দরবানের পর্যটন স্পট মেঘলা সংলগ্ন তালুকদার পাড়ার রেইচা পুরাতন সড়ক সংলগ্ন রাস্তার দক্ষিণ পার্শ্বে ১৫ থেকে ২৫ফুট জায়গা শুধুমাত্র ৫শ টাকার বিনিময়ে মোট ২৬জনকে অস্থায়ী দোকান করার অনুমতি প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।
গত ১৯ মে নেজারত শাখার ডেপুটি কালেক্টর হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্রের মাধ্যমে অনুমতি দেয়া হয়। অনুমতি পত্রে ১২টি শর্তের আলোকে দোকান ঘরের জায়গা ভাড়া দিলেও জায়গার কোন দাগ নম্বর বা চৌহর্দ্দী না থাকায় বরাদবদকৃত ইজারাদার ভূমিদস্যু সোনা দাশ (সোনাইয়া) সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে দোকন ঘর নির্মাণে মহোৎসবে মেতে উঠেছে। সোমবার ভূমিদস্যু সোনাইয়া দোকান ঘর নির্মাণের নামে সড়ক বিভাগের সৃজিত কয়েকটি বড় আকারের রেইনট্রি গাছ কেটে ফেলেন।
এ বিষয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বান্দরবানের উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা রুমি চক্রবর্তী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশীষ মূখার্জী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু আহসান মো. আজিজুল মোস্তফা, এসও মির্জাসহ জেলা প্রশাসনের কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী আবু আহসান মো. আজিজুল মোস্তফা জানান, জেলা প্রশাসন থেকে যে জায়গাগুলো বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে সেগুলো সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা। জেলা প্রশাসন আলোচনা ছাড়া কিভাবে অন্য সংস্থার জায়গা দোকান ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়। সরকারী গাছ কাটার বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশীষ মূখার্জী বলেন, আমি ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শনে দেখেছি জেলা প্রশাসন দোকানের নামে প্লট ভাড়া দিচ্ছে ঐ জায়গাগুলো সড়গ বিভাগের। রাস্তা মাঝামাঝি থেকে ৭৫ফুট সড়ক বিভাগের রেকর্ডভুক্ত জায়গা। তাছাড়া গাছগুলোও আমাদের সড়ক বিভাগের জায়গায়। ভাড়ার ব্যাপারে প্রশাসন থেকে আমাদের লিখিত বা মৌখিক ভাবে জানানো হয়নি।
উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা রুমি চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে বলেন, অনুমতি থাকলেও গাছ কাটা অন্যায়, এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এছাড়া সড়ক বিভাগ যেহেতু তাদের জায়গা দাবি করছে তাই সমাধান না করা পর্যন্ত এখানে কোন কাজ করা যাবে না। কাটা গাছ গুলো যেভাবে আছে সে ভাবেই রেখে দেওয়ার জন্য নিদের্শ দেন।
এ ব্যাপারে বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, জেলা প্রশাসন থেকে যে জায়গাগুলো বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে সেগুলো সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা। দোকানের নামে বরাদ্ধ দেয়া হলেও তাদের কাছে কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। তবে অনুমতি ছাড়া সরকারি গাছ কাটার বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নেজারত শাখার ডেপুটি কালেক্টর হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ বলেন, আমি দোকানঘর নির্মাণের কথা বলেছি। কিন্তু কোন গাছ কাটার জন্য অনুমতিও দেইনি। যদি কেউ গাছ কেটে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসী জানান, জেলা প্রশাসন থেকে দোকান ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা এলাকার ব্যবসায়ীরা বা দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছে পাওয়ার কথা। অবৈধ পন্থায় ভূমিদস্যু সোনাইয়া নিজ পরিবারের ৫জনের নামে ৫টি প্লট কি ভাবে পায়। প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে কিভাবে সরকারি গাছ লোকজন দিয়ে গাছ কাটতে শুরু করে। এলাকবাসী বাঁধা দিলে তিনি প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই গাছ কাটছেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে সোনাইয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের নেজারত শাখার ডেপুটি কালেক্টর হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ তাকে দোকানঘর নির্মাণের অনুমতি দেন। এছাড়া যেখানে দোকান নির্মাণ করার কথা সেখানে গাছগুলো থাকায় দোকান নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিধায় গাছগুলো কাটতে বাধ্য হয়েছেন।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক মুঠো ফোনে বলেন, গাছ কাটার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। অনুমতি ছাড়া কেন গাছ কাটবে? আমি বিষয়টির অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।
