parbattanews

বিএসএফের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে জয়পুরহাটে বিজিবির বাধা

সীমান্তে বিজিবির টহলদল

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পূর্ব উচনা ঘোনাপাড়া সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিরুদ্ধে। তবে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ওই কাজ বন্ধ করে দেয়।

বুধবার সকাল থেকে উপজেলার কয়া বিওপির আওতাধীন পূর্ব উচনা ঘোনাপাড়া সীমান্তের ২৮১ নম্বর পিলারের ৪৭ ও ৪৮ নম্বর সাব-পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বিএসএফ। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী শূন্যরেখার ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী স্থাপনা বা বেড়া নির্মাণের বিধান নেই। অভিযোগ রয়েছে, সেই নিয়ম উপেক্ষা করেই বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্মাণকাজে বাধা দেয়। এ সময় সীমান্তে দুই বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, বিজিবির অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলোচনার পর আপাতত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও কয়েকবার বিএসএফ একই এলাকায় বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছে। এমনকি রাতের আঁধারে সীমান্তের কিছু অংশে গোপনে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

পূর্ব উচনা ঘোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘এ অবস্থায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। আগেও কয়েকবার বিএসএফ এখানে বেড়া দিতে এসেছিল। তখনও বিজিবি ও গ্রামবাসী মিলে বাধা দিয়েছিল। কিন্তু তারা বারবার একই চেষ্টা করছে। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই।’

জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার মো. সাত্তার হোসেন বলেন, ‘সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা হয়েছিল। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’

Exit mobile version