২০২০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত বাংলাদেশের পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায়, ঐ সময়ে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে ‘সোনালী অধ্যায়’ চলছিলো বলে প্রচার করা হয়েছে।
২০২০ সালের ১৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির ফলে ভারত ও বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক সোনালী অধ্যায় রচনা করেছে।”
এ সময় হাসিনাও ভারতকে বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কিন্তু দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের এমন উষ্ণ সম্পর্ক উপভোগ করার বছরটি মোটেও সুখকর ছিল না ভারতের সাথে সীমান্তবর্তী এলাকায় বাস করা বাংলাদেশিদের জন্য। সে বছর সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে ৫১ বাংলাদেশি নিহত হন যা গত এক দশকের মধ্যে এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যা।
মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর পরিসংখ্যান বলছে, ২০০০ সাল থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১,৪০৭ জন বাংলাদেশি সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছেন; যা দুই দেশের সীমান্তকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সীমান্তগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।
কিন্তু এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনাগুলোকে ‘স্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় ভারত এবং বাংলাদেশের মিডিয়ায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ এসব হত্যাকাণ্ডের ভুক্তভোগী দেশ হলেও এখানকার শীর্ষ স্থানীয় মিডিয়াতে এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলোর বর্ণনা ভারতীয় মিডিয়ার বর্ণনার ধরনের চেয়ে খুব একটা ভিন্ন হয় না। এমনটা উঠে এসেছে সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায়।
“Naturalizing Violence: Media Discourse and the Limits of Journalistic Nationalism” শীর্ষক এই গবেষণাটি প্রকাশ করেছে রাউটলেজের জার্নালিজম স্টাডিজ জার্নাল। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক আহমেদ জায়িফ ও পেরি পার্কস ভারত ও বাংলাদেশের প্রধান ৫টি সংবাদমাধ্যমের এক বছরে (২০২০) প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করে এই তথ্য তুলে ধরেছেন। উল্লেখ্য, জায়িফ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় দীর্ঘদিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন।
গবেষণাটিতে মূলত তিনটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশ্নগুলো ছিল:
প্রশ্ন (১): কীভাবে বাংলাদেশের এবং ভারতের প্রধান সংবাদপত্রগুলো সীমান্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা বাংলাদেশি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার ঘটনাগুলোকে ভাষাগতভাবে (discursively) চিত্রায়িত করে, এবং এই ধরনের কাভারেজের পরিমাণ দুই দেশের সংবাদমাধ্যমে কীভাবে ভিন্ন?
প্রশ্ন (২): সীমান্ত হত্যার কাভারেজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এবং ভারতের সংবাদপত্রগুলো কতটা খণ্ডিত ঘটনাভিত্তিক (episodic) এবং কতোটা বিষয়ভিত্তিক (thematic) খবর প্রচার করেছে?
প্রশ্ন (৩): সীমান্ত হত্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এবং ভারতের সংবাদপত্রগুলো কীভাবে অপরাধী (perpetrators) এবং ভুক্তভোগীদের উপস্থাপন করে, এবং এই উপস্থাপনাগুলো দুটি দেশের জাতীয় পরিচয়ের ভাষাগত নির্মাণ সম্পর্কে কী প্রকাশ করে?
গবেষণার অংশ হিসেবে গবেষকগণ ২০২০ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার এবং ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, দৈনিক জাগরণ এবং আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত সীমান্ত হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ৪৮টি প্রতিবেদন সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছেন।
গবেষণায় তারা দেখিয়েছেন, প্রভাবশালী দেশ (ভারত)-এর সংবাদপত্রগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড উপেক্ষা করে এবং ভুক্তভোগীদেরই দোষারোপ করে, যা সম্ভবত ভারতের জাতীয় স্বার্থের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে, (ভুক্তভোগী) তুলনামূলক দুর্বল দেশ (বাংলাদেশ)-এর সংবাদপত্রগুলোও ঘটনাগুলোকে গুরুত্বহীন করে তোলে খণ্ডিত (episodic) রিপোর্টিং এবং সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভরতার মাধ্যমে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ‘নীরবতা’ এবং ‘অপরাধী’ হিসেবে উপস্থাপন
গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতের প্রভাবশালী সংবাদপত্রগুলো সীমান্ত হত্যার বিষয়টিকে মূলত উপেক্ষা করার নীতি গ্রহণ করেছে। ২০২০ সালে নির্দিষ্টভাবে ৫১ জন বাংলাদেশি নিহত হলেও নির্বাচিত ভারতীয় সংবাদপত্রগুলোর মধ্যে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ায় মাত্র চারটি এবং আনন্দবাজারে একটি সম্পর্কিত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। দৈনিক জাগরণে কোনো সরাসরি প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোতেও নিহতদের প্রায়ই “স্মাগলার”, “অবৈধ অনুপ্রবেশকারী” বা “অপরাধী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার চারটি প্রতিবেদনের তিনটির শিরোনামেই “smuggler” শব্দটি ছিল বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভারতীয় পাচারকারীদের “smugglers” বলা হলেও বাংলাদেশিদের “criminals” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকদ্বয়ে মতে, এই ভাষা ভারতীয় রাষ্ট্রীয় অবস্থানকে শক্তিশালী করে, যেখানে বিএসএফকে জাতীয় নিরাপত্তার রক্ষক এবং নিহত বাংলাদেশিদের হুমকি হিসেবে দেখানো হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিএসএফের আত্মরক্ষার দাবি প্রায় প্রশ্নহীনভাবে তুলে ধরা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ৭ সেপ্টেম্বরের টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের সময় বিএসএফ সদস্যদের আক্রমণ করার পর নিহত হন। বিএসএফের বক্তব্যও সেখানে গুরুত্ব পায় যে, “নন-লেথাল” অস্ত্র থেকে আত্মরক্ষার্থে একটি গুলি করা হয়েছিল।
আনন্দবাজারের একমাত্র প্রাসঙ্গিক প্রতিবেদনে একই ধরনের ভাষা ব্যবহৃত হয়, যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশি পাচারকারীরা পাথর ছুঁড়ে বিএসএফকে আক্রমণ করেছিল এবং আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের ‘দ্বিধা’ ও ‘কৌশলী’ অবস্থান
অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধান দুটি পত্রিকা—‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ ভারতের তুলনায় সীমান্ত হত্যার খবর বেশি প্রকাশিত হলেও, সেগুলো উপস্থাপিত হয়েছে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে। প্রথম আলো ২৪টি প্রতিবেদনে ২৭টি হত্যার ঘটনা তুলে ধরে। দ্য ডেইলি স্টার ১৯টি প্রতিবেদনে ২০ জন বাংলাদেশির মৃত্যু নিয়ে প্রতিবেদন করে।
তবে গবেষকরা দেখিয়েছেন, ২০২০ সালে বাংলাদেশ সীমান্তে ঘটা মোট ৫১টি হত্যাকাণ্ডের সবগুলোকে দুটি পত্রিকার কোনোটিই কাভার করেনি।
গবেষকরা দেখেছেন, এসব প্রতিবেদনে প্রায়ই শুধু ঘটনার ভাসা ভাসা বিবরণ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ বা কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো সেভাবে উঠে আসেনি। প্রতিবেদনের বড় অংশ ছিল সংক্ষিপ্ত, নির্দিষ্ট ওই ঘটনাভিত্তিক এবং সরকারি সূত্রনির্ভর।
গবেষণায় বলা হয়েছে, দ্য ডেইলি স্টারের কোনো প্রতিবেদন প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়নি। এগুলো মূলত পেছনের পৃষ্ঠা বা ২, ৩ ও ৪ নম্বর পাতায় ছাপা হয়েছে। প্রথম আলোতে মাত্র একটি প্রতিবেদন প্রথম পাতায় যায়, বাকিগুলো মূলত ৩, ৪ ও ৫ নম্বর পাতায় ছাপা হয়।
এতগুলো হত্যার ঘটনা ঘটার পরে দ্য ডেইলি স্টার এ সংক্রান্ত কোনো ফলোআপ প্রতিবেদন করেনি। প্রথম আলো সাতটি ফলোআপ করলেও সেগুলোর তিনটি ছিল মরদেহ ফেরত দেওয়া নিয়ে, তিনটি পতাকা বৈঠক নিয়ে এবং একটি ফেলানী হত্যাকাণ্ড নিয়ে।
গবেষকদ্বয় আরও দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো অনেক ক্ষেত্রে ঘটনার গভীরে না গিয়ে ‘এপিসোডিক’ বা বিচ্ছিন্ন ঘটনার মতো করে সংবাদ পরিবেশন করেছে। এতে করে সীমান্ত হত্যাগুলো দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমস্যা হিসেবে না দাঁড়িয়ে বরং বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা হিসেবে পাঠকের সামনে এসেছে।
এছাড়া সরকারের সাথে ভারতের সুসম্পর্ক বজায় রাখার যে কূটনৈতিক পরিবেশ, তা সম্ভবত সাংবাদিকদের প্রতিবেদনের ওপর এক ধরণের পরোক্ষ প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করছেন গবেষকরা।
ব্যতিক্রমী কিছু প্রতিবেদন
গবেষণায় কয়েকটি ব্যতিক্রমী প্রতিবেদনের কথাও বলা হয়েছে।
প্রথম আলো ১৮ সেপ্টেম্বর একটি তুলনামূলকভাবে থিম্যাটিক (বিষয়ভিত্তিক) প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল, “করোনার মধ্যেও সীমান্ত হত্যা কমেনি”। সেখানে সাম্প্রতিক হত্যার পাশাপাশি আগের ১১ বছরের সীমান্ত হত্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
দ্য ডেইলি স্টার ২৪ জানুয়ারি “A Forgotten Promise” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। উপশিরোনামে বলা হয়, ২০১৮ সালের তুলনায় আগের বছরে বিএসএফের সীমান্ত হত্যা তিন গুণ বেড়েছে, যদিও ভারত “zero death” বা শূন্য মৃত্যুর আশ্বাস দিয়েছিল। প্রতিবেদনের শুরুতেই বলা হয়, প্রতিবার হত্যার পর বাংলাদেশ উদ্বেগ জানায়, ভারত আশ্বাস দেয়, কিন্তু হত্যাকাণ্ড চলতেই থাকে।
৭ জুলাই ডেইলি স্টারের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাসে সিলেটের তিন সীমান্ত উপজেলায় ভারতীয় খাসিয়া নাগরিক বা বিএসএফের হাতে পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। ২৪ ডিসেম্বর আরেক প্রতিবেদনের শিরোনামে “another Bangladeshi” শব্দ ব্যবহার করে ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ওই বছর অন্তত ৪৮ বাংলাদেশি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিহত হয়েছেন।
আইনি প্রেক্ষাপট ও ‘মিসিং কন্টেক্সট’
গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সীমান্ত হত্যা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে আইনি প্রেক্ষাপট প্রায় অনুপস্থিত ছিল। ১৯৭৫ সালের যৌথ ভারত-বাংলাদেশ নির্দেশিকায় বলা আছে, কেউ ভুল করে বা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হলে তাকে সংশ্লিষ্ট দেশের সীমান্ত বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করার কথা। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর সীমা আছে।
কিন্তু গবেষকদের মতে, ভারতীয় বা বাংলাদেশি কোনো সংবাদপত্রই নিয়মিতভাবে এই প্রেক্ষাপট তুলে ধরেনি। ফলে পাঠকরা বুঝতে পারেন না, সীমান্ত পার হওয়া, চোরাচালান বা পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ থাকলেও প্রাণঘাতী গুলি চালানো কেন আইনি ও মানবাধিকারের বিরুদ্ধে।
তবে প্রথম আলো ২৪ জানুয়ারির এক প্রতিবেদনে একজন বিজিবি কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে এই প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছিল। তিনি বলেন, “কেউ ভুল করে বা অবৈধভাবে ভারতে ঢুকলে তাকে চুক্তি অনুযায়ী বিজিবির কাছে ফেরত দেওয়ার কথা, কিন্তু বিএসএফ গুলি করছে।”
গবেষণায় বলা হয়েছে, দ্য ডেইলি স্টারের কোনো প্রতিবেদনেই আইনি প্রেক্ষাপট সেভাবে আসেনি। ভারতীয় সংবাদপত্রগুলোতেও এই প্রসঙ্গ অনুপস্থিত ছিল।
ভাষার ভেতরেও দায় আড়াল হয়
গবেষণা মতে, উভয় দেশের মিডিয়ায় সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় বাক্যের ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, “বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছে” বললে কর্তার দায় স্পষ্ট থাকে। কিন্তু “বিএসএফের গুলিতে নিহত” বা “shot dead by BSF” বললে দায় কিছুটা দূরে সরে যায়। ভারতীয় সংবাদপত্রগুলোর শিরোনামে এ ধরনের নিষ্ক্রিয় ভাষা বেশি দেখা যায়।
বাংলাদেশি সংবাদপত্রে দায় আরোপ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকলেও সেখানেও “বিএসএফের গুলিতে নিহত” ধরনের ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে।
গবেষণায় ৭ সেপ্টেম্বর একই ঘটনার দুই দেশের কাভারেজ তুলনা করা হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া শিরোনাম করে “Bangladeshi smuggler shot dead by BSF in Malda”, আর ডেইলি স্টার শিরোনাম করে “BSF Shoots Bangladeshi Dead।” গবেষকদের মতে, দ্বিতীয় শিরোনামে কর্তার দায় স্পষ্টতর।
তবে গবেষকদের ব্যাখ্যা হলো, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের ওপর আইনি, রাজনৈতিক ও মালিকানাগত চাপ ছিল। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, সাংবাদিক গ্রেপ্তার, বিরোধী মতের ওপর চাপ, মিডিয়া মালিকানায় ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক স্বার্থ, এসব কারণে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা কাজ করেছে।
একই সঙ্গে তখনকার বাংলাদেশ সরকার ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী ছিল। ফলে নাগরিক স্বার্থ ও সরকারি কূটনৈতিক অবস্থানের মধ্যে ফাঁক তৈরি হয়, যা সংবাদমাধ্যমের কাভারেজেও প্রতিফলিত হয়েছে।
গবেষণায় কয়েকটি সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করা হয়েছে। প্রথমত, এতে মাত্র পাঁচটি সংবাদপত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের সব সংবাদমাধ্যম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয়ত, কিছু আর্কাইভে প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল, বিশেষ করে ভারতীয় সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে। আনন্দবাজারের সম্পূর্ণ ডিজিটাল আর্কাইভ পাওয়া যায়নি; পত্রিকার লাইব্রেরিয়ান সরবরাহ করা ২০ পৃষ্ঠার পিডিএফ থেকে মাত্র একটি প্রাসঙ্গিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। তৃতীয়ত, গবেষণাটি সংবাদপত্রকেন্দ্রিক; টেলিভিশন, অনলাইন পোর্টাল, সামাজিক মাধ্যম বা দর্শক-পাঠকের প্রতিক্রিয়া এখানে বিশ্লেষণ করা হয়নি।
লেখক : সৈয়দ হাসান আল মানজুর (দ্য ডিসেন্ট ডিজিটাল ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টার)
উৎস : দ্য ডিসেন্ট ( ১ জুলাই ২০২৬)
