কক্সবাজারের টেকনাফে তুমুল বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া একটি অটোরিকশা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গত মঙ্গলবার ( ২৩ জুন) রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কচ্ছপিয়া এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। বিজিবি’র এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক তৎপরতায় অটোরিকশাটি ফিরে পেয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক অসহায় ও গরীব কিশোর চালক।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া ২৪ জুন এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান- গত ২৩ জুন বিকেলে আনুমানিক ৫টার দিকে এক কিশোর কান্নারত ও চরম আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় ২ বিজিবি’র অধীনস্থ সী-বীচ বিওপিতে এসে আশ্রয় নেয়। সে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যদের জানায়, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় একদল ছিনতাইকারী তাকে নির্মমভাবে মারধর করে তার জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশাটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
দরিদ্র পরিবারের ওই কিশোর চালকের আকুতি ও কান্না দেখে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেন টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক। তাঁর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় বিজিবি’র একটি বিশেষ চৌকস টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় দুর্বৃত্তবিরোধী অভিযান শুরু করে। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিজিবি সদস্যরা টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া ও কচ্ছপিয়া এলাকার বিভিন্ন সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকার জায়গায় টানা পাঁচ ঘণ্টা নিবিড় তল্লাশি চালান।
অবশেষে রাত ১০টার দিকে কচ্ছপিয়া এলাকার একটি গ্রামের নির্জন স্থানে ছিনতাইকারীদের ফেলে যাওয়া অটোরিকশাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বিজিবি। তবে বিজিবি’র সাঁড়াশি অভিযানের মুখে বেগতিক দেখে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উদ্ধারকৃত অটোরিকশাটি ভুক্তভোগী কিশোর এবং তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একমাত্র উপার্জনের মাধ্যমটি ফেরত পেয়ে কিশোরের পরিবার ও স্থানীয়রা বিজিবি’র প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
২ বিজিবি’র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে। মাদক, চোরাচালান ও মানবপাচার রোধের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে বিজিবি’র এমন কার্যকর ও মানবিক তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
