বিশ্বকাপ শুরু হতে আর দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো সমর্থক, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার আগমনের প্রস্তুতির মধ্যেই ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কারণে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে মেক্সিকো। মধ্য আফ্রিকার কয়েকটি দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ওপর সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির প্রধান তিনটি বিমান সংস্থা।
শুক্রবার ( ২৯ মে ) মেক্সিকোর বৃহত্তম বিমান সংস্থা অ্যারোমেক্সিকো জানায়, গত ২১ দিনের মধ্যে উগান্ডা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র বা দক্ষিণ সুদান সফর করেছেন—এমন যাত্রীদের বিমানপথে মেক্সিকোতে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পরে স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা ভিভা ও ভোলারিসও একই ধরনের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে।
বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আপাতত ৬০ দিনের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব। দেশটি ইতোমধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে এবং গ্রুপ পর্বের কয়েকটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে খেলবে।
মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে আগামী ১১ জুন। উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো সিটিতে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে কঙ্গো দলের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। দলটি বর্তমানে বেলজিয়ামে অনুশীলন করছে এবং বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরকে নিজেদের বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে কঙ্গোতে ইবোলায় ১৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২২৩টি সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে ১২৫টি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ৯০০-এর বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরেকটি বিষয়। চলমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনকে ঘিরে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আগেভাগেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে মেক্সিকো। আয়োজকদের আশা, এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা টুর্নামেন্টজুড়ে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
