বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গেলো তিন বছর ধরে কক্সবাজারের টেকনাফের এক দিনমজুরের মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্কে গড়ে তোলে মাদ্রাসা শিক্ষক নুরুল মোস্তফা। ভিকটিম যুবতী স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে ৭ দিন ধরে মাদ্রাসা শিক্ষকের বাসার সামনে অনশন করছেন। তবে বিষয়টি ধামচাপা দিতে লাখ টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে মাদ্রাসা শিক্ষক ও তার পরিবার।
১০ আগস্ট অনশনে থাকা অবস্থায় হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ করে সমাধানে যেতে পারেনি উভয় পক্ষ।
জানা গেছে, ৩ আগস্ট থেকে এখনো পর্যন্ত হ্নীলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলী আকবর পাড়ায় নুরুল মোস্তাফার বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশনে রয়েছেন মেয়েটি।
নুরুল মোস্তফা আলী আকবর পাড়ার মৃত হাবিব উল্লাহ’র ছেলে। এ ব্যাপারে টেকনাফ থানায় অভিযোগ দায়ের কাছে যুবতীর মা নুর নাহার।
যুবতীর পরিবার ও স্থানীয় অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নুরুল মোস্তফা স্থানীয় গাউছিয়া নুরানী মাদ্রাসার শিক্ষকতা করেন। সেই সুবাধে জনৈক আমান উল্লাহ’র বাসা গৃহ শিক্ষক ছিল। আমান উল্লাহ ও তার স্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন। ওই বাড়িতেই গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন সেই যুবতী। সেখানেই নুরুল মোস্তফার সাথে গৃহপরিচারিকার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ নিয়ে শপথ করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যুবতীকে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। এইভাবেই দিন যেতে থাকে। আশে পাশের লোকজন মাদ্রাসা শিক্ষককে নিয়মিত রাতবিরাতে যাওয়া আসা করতে দেখলেই দূরত্ব বাড়ায় তিনি। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বিয়ের জন্য চাপ দেয় যুবতী।
এবিষয়ে ভিকটিম বলেন, বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে মোস্তফা ৩ আগস্ট রাতে আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। তারপর উঠোনে রেখে পালিয়ে যায়। তাঁর অনুপস্থিতিতে তারা বাবা মা আমাকে মারধর করে। তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি এখন থেকে যায়নি।
ভিকটিম আরো বলেন, আমাকে এখান থেকে তাড়াতে মোস্তফার পরিবার আমাকে ৫০ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমি টাকা নিব না। আমি তাকেই বিয়ে করব। তাকে বিয়ে করতে না পারলে আমি আত্নহত্যা করব। নাইক্ষ্যংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী নুরুল আবছার বলেন, ওই মাদ্রাসা শিক্ষককে রাতের আঁধারে বেশ কয়েকবার ওই মেয়েটির বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখেছি।
এবিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ জাহাহঙ্গীর বলেন, বিষয়টি আমরা সমঝোতার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মেয়েটি রাজি হয়নি। গত ৭ আগস্ট আবুল হাসেমের বাড়িতে বসে সালিশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মেয়েটির ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছি।
এ ব্যাপারে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, মঙ্গলবার মেয়েটি ও ছেলেটির পরিবার নিয়ে মীমাংসার জন্য বসেছিলাম। ছেলেটি সব অভিযোগ অস্বীকার করছে। কিন্তু মেয়েটির কাছে কিছু প্রমান রয়েছে সম্পর্কের। আমি ছেলেপক্ষকে ২৪ ঘন্টা সময় দিয়েছি। এরমধ্যে বিয়েতে রাজি না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছি।
এ ব্যাপারে টেকনাফ থানার ওসি তদন্ত আব্দুল আলীম জানান, মেয়েটির পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। ওসি ছুটিতে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে জানেন না তিনি।
