parbattanews

বৃষ্টি আর কুয়োর পানিতেই পানছড়িতে মুসল্লিদের অজু

বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির জমানো পানি দিয়েই নামাজের অজু করতো মুসল্লিরা। এখন বৃষ্টি নেই তাই মসজিদের তলদেশের একটি কুয়ো থেকে পানি তুলে ট্যাংকিতে জমানো হয়। সেই জমানো পানি দিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অজু বানায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত সেই কুয়োটিও কয়েকদিন পর শুকিয়ে যাবে। তখন ব্যাটারি চালিত টমটম দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দুর থেকে পানি এনে প্রথমে টাংকি ভরাট তারপর চলে অজু। এই মানবেতর দৃশ্যটি চোখে আসে উপজেলার ৫নং উল্টাছড়ি ইউপির আলীনগর জামে মসজিদে।

কয়েকজনকে দেখা গেছে বালতি ও কলসী নিয়ে পাহাড়ের তলদেশের কুয়ো থেকে ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত পানি তুলে ট্যাংকি ভরাট করতে। মসজিদের চালের সাথে বিশেষ কায়দায় প্লাস্টিকের মোটা পাইপে টিনের টুকরোর জোড়া-তালির মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে ট্যাংকি ভরাট করা হতো। সেই সুযোগ এখন আর নেই। তাই দুর্ভোগের কথা জানালেন সবাই। মুসল্লি আজিজুল হক জানালেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ও ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি।

বর্তমান মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন জানান, পূর্বের কমিটিও পানির সুবিধার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছিল কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টির দিকে আজো তাকিয়ে আছে সবাই। মসজিদের ইমাম মো. ইসমাইল হোসেনও পানির দুর্দশার কথা জানান।

স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নিজ চোখে নিয়মিত দেখা চিত্রগুলো খুবই মানবেতর। এই মানবেতর পরিস্থিতি থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মুক্তি দিতে তিনিও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

তবে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে চলছে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে। দু’উপজেলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি খাচ্ছেন হিমশিম। সঠিক তদন্তের অভাবে উপজেলার অনেক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আজো পানির সমস্যায় জর্জরিত। সঠিক তদারকীর মাধ্যমে নলকুপ ও রিং ওয়েলগুলো বিতরণ করলে হয়তো আলী নগরের মুসল্লিরা কুয়োর ময়লা পানিতে অজু করতে হতো না।

Exit mobile version