ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে এবারে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ নারী শিক্ষার্থী। নারী নেতৃত্বের গৌরব ফিরিয়ে আনতে ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জুলাই অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ উমামা ফাতেমা। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় উমামা ফাতেমা সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। অভ্যুত্থানের পরপরই তিনি ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ান।
নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরেক নারী শিক্ষার্থী তাসনিম আফরোজ ইমি। তিনি আছেন বামপন্থী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জোট ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেলে। ইমি সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে শামসুন্নাহার হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী জাতীয় নাগরিক কমিটির সাথেও যুক্ত ছিলেন। যদিও পরবর্তীতে সেই সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেন।
জিএস পদে মাত্র একজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। তিনি হলেন সাবিনা ইয়াসমিন। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের প্যানেল থেকে জিএস পদে একমাত্র নারী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়বেন তিনি।
ডাকসুর শীর্ষ তিন পদের মধ্যে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ জন নারী শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে লড়বেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেহা শারমিন এ্যানি। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নারীর অধিকার নিয়ে কাজের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মহলে তার পরিচিতি রয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে এমফিল করছেন। শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন সংগঠন ও প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় এ্যানি লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্র-ছাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রথম নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।
একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের প্যানেলের প্রার্থী আশরেফা খাতুন। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী বর্তমানে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আশরেফার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই পরিচিত। তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় শাহবাগের উত্তপ্ত রাজপথে স্লোগান দেয়ার মাধ্যমে। পরবর্তীতে সাত কলেজ বাতিল আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ছাত্র অধিকার পরিষদের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ডাকসু নির্বাচনের ইতিহাসে মাত্র ২ জন নারী ভিপি (সহ-সভাপতি) পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রথম নারী ভিপি হিসেবে ১৯৬০-৬১ শিক্ষাবর্ষে নির্বাচিত হন বেগম জাহানারা আক্তার। এরপর ১৯৬৬-৬৭ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র ইউনিয়ন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় নারী হিসেবে ভিপি নির্বাচিত হন মাহফুজা খানম। এরপর ডাকসুতে আর কোনো নারী ভিপি নির্বাচিত হননি।
