রাঙ্গামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের চম্পাতলী এলাকায় একটি চায়ের দোকানে চা পাতার পরিবর্তে ভুলবশত বিষাক্ত কীটনাশক দিয়ে পানীয় প্রস্তুত করে তা পান করে অন্তত ৮ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
চা পান করার পর কয়েকজন বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অসুস্থদের মধ্যে তাৎক্ষণিক তিনজনের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন— সমরজিৎ চাকমা, রাঙ্গা চাকমা এবং ছায়ারাণী চাকমা। তারা সকলেই সাজেকের চম্পাতলী এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বাকিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, সাজেক এলাকার চৌদ্দমাইল চম্পাতলী গ্রামের মহারাজ চাকমার চায়ের দোকানে জুমের কাজ শেষে কয়েকজন শ্রমিক চা পান করতে যান। এ সময় দোকানের কর্মচারী ভুলবশত চা পাতা মনে করে ধানক্ষেতে ব্যবহৃত ‘ফুরাডন’ নামের একটি বিষাক্ত কীটনাশক দিয়ে চা তৈরি করেন। সেই চা পান করার কিছুক্ষণ পরই কয়েকজনের বমি, মাথা ঘোরা, পেট ব্যথা ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। এর মধ্যে কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত অসুস্থদের উদ্ধার করে প্রথমে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন রাত সাড়ে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে চা পাতার পরিবর্তে বিষাক্ত কীটনাশক পান করে ৭ থেকে ৮ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের কয়েকজনকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের নাম পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে তার বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উৎস : দৈনিক ইত্তেফাক
