ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। কমপক্ষে দু’শো ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা জীবিতদের উদ্ধারে রোববারও প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এএফপির সাংবাদিকরা জানান, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরের কারাবালেদা শহরে রোববার ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তি ও তার কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
এই উদ্ধার অভিযানে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত দেশটিতে এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমাও ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে।
লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর পর দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষ বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে। একই সঙ্গে স্বজনদের খুঁজে পেতে স্থানীয় বাসিন্দারাও ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার পরপর দুটি ভূমিকম্পে ৭৭৪টি ভবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৯টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরায় চার স্বজনের খোঁজে ধ্বংসস্তূপে পাশেই অবস্থান করছেন হেক্টর আগুইলেরা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সদস্যদের বের করে আনার মতো কোনো সহায়তা পাচ্ছি না। একা এটা সম্ভব নয়। তারা ধ্বংসস্তূপের নিচেই আছে। আমরা জানি তারা আর বেঁচে নেই, তবুও এখানে অপেক্ষা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আর কোনো আশা নেই; এখন আমার কাছে আছে শুধু স্মৃতিই।’
বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাই জীবিতদের উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এরপর উদ্ধার অভিযান সাধারণত মরদেহ উদ্ধারের অভিযানে পরিণত হয়।
কারাকাসের সান বেরনার্দিনো এলাকায় স্বেচ্ছাসেবীরা ধসে পড়া একটি ভবন ড্রিল মেশিন দিয়ে কংক্রিট কেটে এবং সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে হাতে হাতে করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।
রাজধানীর আরেক এলাকা চাকাওতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি বড় বড় ডিজিটাল পর্দায় দেখানো হচ্ছে, যাতে তাদের খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
রোববার হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫০ জন নিহত হয়েছে এবং ৩ হাজার ১৫০ জন আহত হয়েছেন। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই বুধবারের ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া লা গুয়াইরার বিভিন্ন এলাকায় লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফার্মেসি ও সুপারমার্কেটসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট হয়েছে।
ভূমিকম্প-পরবর্তী সরকারি সহায়তা খুবই ধীরগতির এবং প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলেও অভিযোগ তাদের।
