ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পের পেছনে রয়েছে পৃথিবীর অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুল চাপ। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, দেশটির ভৌগোলিক অবস্থানই এমন শক্তিশালী ভূমিকম্পের অন্যতম কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর বাইরের স্তর বা ভূত্বক কয়েকটি বিশাল টেকটোনিক প্লেটে বিভক্ত। এগুলো অনেকটা জিগস পাজলের খণ্ডের মতো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ক্রমাগত খুব ধীর গতিতে সরে যাচ্ছে। বছরে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার করে এই সঞ্চালন ঘটে, যা মানুষের নখ বৃদ্ধির গতির কাছাকাছি।
উত্তর ভেনেজুয়েলা ক্যারিবীয় প্লেট এবং দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই দুটি প্লেট একে অপরের তুলনায় ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে তাদের কিছু অংশ আটকে যায়।
এর ফলে বছরের পর বছর ধরে ওই এলাকায় চাপ জমতে থাকে। একসময় সেই চাপ সহ্যের সীমা অতিক্রম করলে প্লেটগুলো হঠাৎ সরে যায় বা নিজেদের অবস্থানে ফিরে আসে।
এই আকস্মিক নড়াচড়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি মুক্ত হয়, যা ভূমিকম্প হিসেবে অনুভূত হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক জোড়া ভূমিকম্পের পেছনেও একই প্রক্রিয়া কাজ করেছে।
উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯৭১ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উৎস: বিবিসি
