ভারতের মণিপুর রাজ্যে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে দেশটির নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতাসহ মোট আট জঙ্গিকে গ্রেপ্তার মণিপুর পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি এবং নথিপত্রও উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) ত্রিপুরার সংবাদমাধ্যম জাগরণ ত্রিপুরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়,মণিপুরের জোগাম লিবারেশন ফ্রন্ট (জেডএলএফ)-এর স্বঘোষিত কমান্ডার-ইন-চিফ ভিনসেন্ট পুমজামাং তাইথুল এবং কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (কেসিপি)-এর স্বঘোষিত উপদেষ্টা খুম্বংমায়ুম আনন্দ মেইতি। চুরাচাঁদপুর, ইম্ফল পশ্চিম, কাকচিং ও ইম্ফল পূর্ব জেলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতিবেদনে মণিপুর রাজ্যের পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, আটক অপরাধীদের কাছ থেকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল গুলি, মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু আপত্তিকর নথি উদ্ধার হয়েছে।
এছাড়াও নিষিদ্ধ এছাড়াও প্রকাশক পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এবং তাদের সরকারি মালিক বিপ্লবী পিপলস ফ্রন্ট (আরপিএফ)-এর চার সদস্যকে ইম্ফল পূর্ব জেলার লামলাই থানার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক জঙ্গিরা তিন যুবককে জোর করে সংগঠনে ভরতি করানোর জন্য আটকে রেখেছিল। নিরাপত্তাবাহিনী তাঁদের উদ্ধার করেছে।
পুলিশের দাবি, অপহরণ, তোলাবাজি ও অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলায় তল্লাশি ও ঘেরাও অভিযান চালানো হচ্ছে।
উপত্যকা ও পাহাড়ি জেলার সংবেদনশীল এবং মিশ্র জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতেও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে। বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে মণিপুর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মোট ১১৪টি নাকা বা চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
এছাড়াও ইম্ফল-জিরিবাম জাতীয় সড়কে খাদ্যশস্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বহনকারী ট্রাক-সহ বিভিন্ন যানবাহনকে নিরাপত্তা দিয়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো ভিডিও ও গুজব ছড়ানো নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে ভারতের মণিপুর পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও ভিডিও বা অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ভুয়ো পোস্ট শেয়ার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
উৎস : জাগরণ ত্রিপুরা অনলাইন ( ১২ মে ২০২৬)
