parbattanews

মাটিরাঙ্গায় ধর্ষণ নাটক সাজিয়ে দুই বাঙ্গালী যুবককে আটকে রেখেছে পাহাড়ীরা

rape.jpg.pagespeed.ce

মুজিবুর রহমান ভুইয়া :

খাগড়াছড়ির কমলছড়ির সবিতা চাকমা, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির বাঘাইহাটের বাসনা চাকমার পর এবার উগ্র সাম্প্রদায়িক পাহাড়ীদের চোখ পড়েছে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার দিকে। তারা আরো একটি ধর্ষণ নাটক সাজানোর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় বাঙ্গালীরা। পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও বাঙ্গালী বিরোধী সেন্টিমেন্ট তৈরী করতে একের পর এক ধর্ষণ নাটকের সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা মনে করেন, কোন ধরনের সত্যতা ছাড়াই পাহাড়ীরা একের পর নাটক সৃষ্টি করে পাহাড়ের শান্ত পরিস্থিতিকে অশান্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের প্রাণ কুমার পাড়ার বাসিন্দা খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী নিজের বাড়ির পাশে তরকারী খুঁজতে গিয়ে দুই বাঙ্গালী যুবককে দেখে সে ভয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করে স্থানীয় লোকজন জড়ো করে। এসময় স্থানীয় পাহাড়ীরা দুই বাঙ্গালী যুবকের বিরুদ্ধে পাহাড়ী স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ করে। স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে রামশিরা গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে তারুমিয়া (২০) ও মাষ্টারপাড়ার আব্দুর রহিম‘র ছেলে খালেক মিয়া (২০) নামে দুই বাঙ্গালী যুবককে তুলে নিয়ে আটকে রেখেছে পাহাড়ীদের আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-জেএসএস (সংস্কার)।

এদিকে বাঙ্গালী যুবকদের তুলে নিয়ে আটকে রাখার কথা স্বীকার করেছে সংগঠনটির স্থানীয় নেতা অজয় ত্রিপুরা। তিনি পুলিশ-বিজিবি চলে যাওয়ার পর আটক যুবকদের ছেড়ে দেয়া হবে বলে বড়নাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আলী আকবরকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। এবিষয়টি বড়নাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আলী আকবর তার মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বাঙ্গালী যুবকদের জেএসএস (সংস্কার) আটকে রাখলেও ধর্ষন নাটকের নায়িকা স্কুল ছাত্রী ও তার মা‘কে ইউপিডিএফ তুলে নিয়ে গেছে বলে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে। সুত্রটির মতে, বাঙ্গালী যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ তুলে ইউপিডিএফ সাধারণ পাহাড়ীদের মাঝে নতুন করে বাঙ্গালী বিরোধী সেন্টেমেন্টকে উস্কে দিতে চেষ্টা করছে। তারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও সুত্রটি দাবী করেছে। সুত্রটির মতে, পাহাড়ী স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণকারী বাঙ্গালী যুবকদের পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে তাদের কাছে আটকে রাখা এবং কথিত ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীকে তার মা সহ ইউপিডিএফ‘র তুলে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে বড় ধরণের রহস্য লুকিয়ে আছে।

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বড়নাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আলী আকবর বলেন, কোন পক্ষের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি বিধায় স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে জেএসএস (সংস্কার) কর্তৃক দুই বাঙ্গালী যুবককে আটকে রাখার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।

মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মাইন উদ্দিন খান ঘটনাস্থলে থাকায় তার মুঠোফোনে বার বার চেষ্ঠা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রামশিরা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সহিংসতার আশঙ্কায় বাঙ্গালীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

Exit mobile version