মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধিঃ
মানিকছড়ির শিম্প্রুপাড়ার স্কুল টিলার প্রবীণ উপজাতী সমাজপতি লাব্রেঅং মারমা প্রকাশ তনখলা মারমাকে (৬০) গত রবিবার সকালে পুঁড়িয়ে হত্যা করেছে উপজাতী সন্ত্রাসীরা। এ নিয়ে উপজাতি পল্লীতে শোকের ছায়া বিরাজ করলেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাইছে না। তবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, শিম্প্রুপাড়া স্কুল টিলার মৃত থুইলা মারমার ছেলে লাব্রেঅং মারমা প্রকাশ তনখলা মারমার নিকট মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে আসছিল উপজাতী সন্ত্রাসীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। চাঁদা না দেওয়ার এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। গত ৪জুন সন্ত্রাসীদের ভয়ে সে এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে পায়নি। গত ৮ জুন সকালে লেপিয়া পাড়া গভীর জঙ্গলে তার লাশ পড়ে আছে এমন খবর পেয়ে ছুঁটে যান ইউপি মেম্বার আবাইমং মারমাসহ কয়েকজন স্থানীয় উপজাতী। তারা ঘটনাস্থল থেকে লাশ আনতে চাইলে সন্ত্রাসীরা বৃদ্ধার লাশ না দিয়ে তৎক্ষণাৎ আগুন দিয়ে পুঁড়িয়ে দেয়। এতে হতভম্ব হয়ে স্থানীয় উপজাতীরা হতাশ হয়ে ফিরে আসে।
এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া, পরিবারে চলছে কান্নার রোল। এ ব্যাপারে সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউই মুখ খুলে কান্না কিংবা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা।
এ খবরটি জানাজানি হলে সত্যতা নিশ্চিত করতে রামগড় সার্কেল(এ.এস.পি) মো. শাহজাহান হোসেন ও মানিকছড়ি থানার ওসি মোঃ শফিকুল ইসলাম রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় ঘটনাস্থলে যান। সেখানে নিহতের ছেলে মেয়ে ও জনপ্রতিনিধি আবাইমং মারমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কে বা কারা বা কেন মেরেছে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন পারিবারিক ঝগড়ার কারণে। গত ৪দিন নিখোঁজ থাকার পর পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে লাশ পেয়ে নিজেরাই দাহ করেছি। পরিবারের সদস্য, জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনের নিকট বিষয়টি লুকোচুরি করায় জনমনে এ মৃত্যুকে নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার প্রবীণ উপজাতী ও বাঙালী একাধিক ব্যক্তি বলেন মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা গেলে ভাল হতো। মানিকছড়ি থানার ওসি মোঃ শফিকুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে পরিবারের কেউ কাউকে দায়ী করে অভিযোগ করেনি। নিহত ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের জানিয়েছে।
