মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তান-মধ্যস্থতায় আলোচনায় অংশ নিতে ইরান ইসলামাবাদ যেতে অস্বীকার করেছে বলে যে খবর ছড়িয়েছিল, শনিবার তেহরান তা খারিজ করে দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, ইসলামাবাদের শান্তি প্রচেষ্টার জন্য তারা কৃতজ্ঞ।
একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, তেহরান ইসলামাবাদে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই প্রতিবেদনটিকে তার দেশের অবস্থানের ভুল উপস্থাপন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শুক্রবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের বলেছে তারা আগামী দিনগুলোতে ইসলামাবাদে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করতে ইচ্ছুক নয় এবং মার্কিন শর্তগুলো গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে আরাগচি এই অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ইরান “ইসলামাবাদ যেতে কখনো অস্বীকার করেনি।”
তিনি লিখেন, “আমাদের কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অবৈধ যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত এবং স্থায়ী সমাপ্তির শর্তাবলী।”এর জবাবে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এই স্পষ্টীকরণের জন্য আরাগচিকে প্রশংসা করেন। এক পোস্টে তিনি লিখেন, “আপনার স্পষ্টীকরণের জন্য আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞ, আমার প্রিয় ভাই।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া এই অঞ্চলের অন্যতম ভয়াবহ সংঘাতে পাকিস্তান একটি প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তেহরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান ছাড়াও পাকিস্তান গত ৩১ মার্চ সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশরের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মন্ত্রীদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিল।
ইসলামাবাদে চতুর্পক্ষীয় বৈঠকের পর, পাক উপ-প্রধানমন্ত্রী দার বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাথে একটি উচ্চ-পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে শান্তির জন্য একটি পাঁচ দফা উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার মধ্যে ছিল অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করা, যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শুরু করা, অসামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং নৌ-চলাচলের পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘ সনদের প্রাধান্য বজায় রাখা।
গত ২ এপ্রিল পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায় যে, উত্তেজনা হ্রাস এবং অর্থপূর্ণ আলোচনার পথ সুগম করতে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করছে।
ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, “পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমন এবং সংলাপের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পরবর্তী ধাপ হবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে অর্থপূর্ণ আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া।”
সূত্রঃ জিও টিভি
