parbattanews

মা দিবসে পানছড়ির হামিদা

Panchari Hamida Pic n 14.5

নিজস্ব প্রতিবেদক, পানছড়ি:

রবিবার ‘‘বিশ্ব মা দিবস’’। দেশের বড় বড় শহরগুলোর মত পার্বত্য জেলাগুলোতেও এ দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদার সহিত পালিত হয়ে থাকে। তবে তা সীমাবদ্ধ থাকে কিছু কিছু মানুষের মাঝে। আর অনেকেরই অজানা রয়েছে মা দিবস নামে যে একটি দিন রয়েছে। তারই একটি উদাহরণ হামিদা খাতুন। এ হামিদা পানছড়ি বাজারের পিঠা মেম্বার হিসাবে খ্যাত আবদুল আলীর স্ত্রী।

পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার পিছনে চেঙ্গী খালের পাড়েই তাদের জরাজীর্ণ ঘর। তাদের সন্তান শাহানা (২০) ও আবদুল হামিদ (১৫) দু’জনই খর্বকায় প্রতিবন্ধী। বাড়ির আঙিনায় বসে থাকা হামিদাকে মা দিবসের কথা জিজ্ঞাসা করা মাত্রই হামিদার সরাসরি উত্তর আমরা গরীব মানুষ মা দিবস টিবস ইতা বুঝিনা। পোলা আইতের বাপে চা বেইচ্ছা চাইল-ডাইল আইন্যা দে রাইন্দা খাওয়াই ইতা কইরাই আমরা দিন কাটাই। এর মাঝে হামিদার এক কঠিন প্রশ্ন স্যার আম্নেরার মা কি একদিনের।

দিন আসে দিন যায় কিন্তু গৃহবধু হামিদা দীর্ঘ ২০ বছর বুকের ভালোবাসা দিয়ে আকড়ে ধরে আছে তার দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে। গত বছর মারা যায় হামিদার আরও এক প্রতিবন্ধী মেয়ে আম্বিয়া (১৬)। মা দিবসের কথা শুনে আম্বিয়ার শোকে চোখের পানি টলমল করছে হামিদার। আম্বিয়ার জন্য নাকি তার প্রাণ আজও কাঁদে। আবদুল হামিদ মায়ের কোলে চড়ে প্রায় এক মাইলের অধিক পথ পাড়ি দিয়ে মাদ্রাসায় যায়। বর্তমানে সে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।

নিজেদের কোন জায়গা জমি নেই। পরের জায়গায় জরাজীর্ণ ঘরে তাদের বসবাস। দীর্ঘ ২০ বছর তিন প্রতিবন্ধীকে কোলে করে বুকে জড়িয়ে হামিদা বুঝিয়ে দিল মায়ের মতো আপন আর কে আছে।

Exit mobile version