নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাহাড়ের আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সন্তু লারমা সমর্থিতদের বিরোধীতায় রাঙ্গামাটিতে স্থাপিত মেডিক্যাল কলেজ স্থানান্তরিত হচ্ছে বান্দরবানে। সরকারের এ উদ্যোগের ফলে বান্দরবানবাসী স্বপ্ন দেখছে মেডিক্যাল কলেজ।
সোমবার সন্ধ্যায় বান্দরবান জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো.মিজানুল হক চৌধুরী বলেন, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে বান্দরবানে একটি মেডিক্যাল কলেজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাঙামাটিতে করা মেডিক্যাল কলেজটি বান্দরবান জেলায় স্থানান্তর করা যায় কিনা, সেটিও চিন্তা ভাবনা করছে সরকার। মেডিক্যাল কলেজ হলে বান্দরবানবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে। এর ফলে পিছিয়ে পড়া বান্দরবান জেলা আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
এ উদ্যোগকে সফল করতে রাজনৈতিক দল, সুধী সমাজ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক’সহ সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরী মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক এ কথা বলেন।
সভায় জেলা পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রশীদ আমীন, পৌর মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজা, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম চৌধুরী, রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারী একেএম জাহাঙ্গীর, প্রেসক্লাব সেক্রেটারী মিনারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পৌর মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজা বলেন, বান্দরবান মেডিক্যাল কলেজ স্থাপিত হলে স্থানীয়দের কাছে অনেকটা লটারী পাওয়ার মত আনন্দ হবে। এর ফলে জেলাবাসীর আরেকটি নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। রাঙামাটিতে বিরোধীতা করায় দীর্ঘদিন পর সেই নতুন স্বপ্ন করে উকি দিচ্ছে।
জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, চার বছর আগে মেডিক্যাল কলেজ বান্দরবান স্থাপিত হওয়ার কথা ছিল। রাজনৈতিক নেতৃবিন্দ জোরালো তদবিরে কারণে রাঙামাটিতে মেডিক্যাল কলেজটি চলে যায়, বঞ্চিত হয় বান্দরবানবাসী। সরকারের এ সদিচ্ছাকে বান্দরবানবাসী সাদরে গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে জেএসএস নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এটা সরকারের আরেকটি চাল। রাঙ্গামাটিবাসীকে চোখে ধুলো দিতে এবং আন্দোলন দমাতে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন রাজনৈতিক চাল দিচ্ছে সরকার।
