দুলাল হোসেন, খাগড়াছড়ি :
পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন পাহাড়ে ক্রীক বেধেঁ মৎস্য চাষ করছে এ এলাকার লোকজন। এক সময় বাশঁ , গাছই ছিল পার্বত্যবাসীর আয়ের প্রধান উৎস। প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল ঘাটতি ও বেলে মাটির সমস্যা থাকা সত্ত্বেও খাগড়াছড়ি পাহাড়ী এলাকায় পুকুর ও ক্রীক বেধেঁ মৎস্য চাষ গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। খাগড়াছড়িতে পুকুর, দীঘি ও ক্রীকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার। অথচ জেলায় শুধুমাত্র রামগড়ে পোনা উৎপাদনের একটি মিনি হ্যাচারি রয়েছে। যার আয়তন মাত্র দুই একর। এ হ্যাচারীতে বছরে ২৫-৩০কেজি রেনু উৎপাদিত হয়। যা খাগড়াছড়ি জেলার চাহিদা পূরণে অপ্রতুল । ফলে বেশীরভাগ পুকুর, দীঘি ও ক্রীক রয়ে যেত অনাবাদী। নিজের এবং এলাকার সমস্যাগুলো মাথায় এনে জেলায় সর্বপ্রথম ব্যাক্তিগত পর্যায়ে মাছের পোনা উৎপাদন করে মাত্র চার’বছরেই সফলতা পেলেন পানছড়ি উপজেলার কৃষক আবদুর রশিদ।
আবদুর রশিদ, পানছড়ি উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের একজন সফল কৃষক। তার পুকুর এবং ক্রীক রয়েছে প্রায় ৭ একরের। এসব পুকুর এবং ক্রীক পোনার অভাবে অধিকাংশ সময় অনাবাদী থাকত। এসব কষ্টের কারণে ২০০৯ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা থেকে রেনু এনে পোনা উৎপাদনের কাজ শুরু করেছেন। পর্যায়ক্রমে বর্তমানে রুই-কাতলা, মৃগাল, চিলভার কার্প, তেলাপিয়া, ব্রিগেড কার্প জাতীয় মাছের পোনাসহ প্রায় ২০ ধরনের পোনা উৎপাদন করে যাচ্ছেন তিনি। নিজের পুকুরে মাছ চাষ করার পাশাপাশি তিনি এখন পানছড়ি উপজেলার পুরো মাছের পোনার যোগান দিচ্ছেন। পাশাপাশি মাছের পোনা যাচ্ছে জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও।
মাত্র দুই লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি এখন প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মালিক। এবছরই তিনি প্রায় ১৫ লক্ষ পোনা উৎপাদন করেছেন। আগামী বছর ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ পোনা উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে রশিদের। বর্তমানে তিনি তার এই নার্সারীতে ২০জন লোকের কর্মসংস্থান করেছেন। কখনো কখনো দিনে ৫০ জনের বেশী লোক কাজ করে। আবদুর রশিদ নিজে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি এলাকার বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এলাকার উন্নয়নে ভুমিকা রাখছেন।
আবদুর রশিদ বলেন, তিনি চার/পাঁচ বছর যাবত মাছের পোনা উৎপাদন করে যাচ্ছেন। নানা সমস্যা রয়েছে এ উৎপাদন প্রক্রিয়ায়। এ বছর তিনি ১৪-১৫ লক্ষ পোনা উৎপাদন করেছেন। এর মধ্যে গত অক্টোবর মাসে আড়াই লক্ষ টাকার পোনা বিক্রি করেছেন। মৎস্য বিভাগের লোকজনের সহযোগিতা এবং সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আগামী বছর ৪০-৫০ লক্ষ পোনা উৎপাদন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মৎস্য চাষে আবদুর রশিদের সফলতার কাহিনী এখন পুরো খাগড়াছড়ি জেলায়। তিনি জানান, সরকারী সহযোগিতা পেলে তিনি বাণিজ্যিকভাবে পোনা উৎপাদন করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।
পানছড়ি উপজেলা মৎস কর্মকর্তা প্রিয় কান্তি চাকমা বলেন, মৎস বিভাগ আবদুর রশিদকে সকল ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ফলে আবদুর রশিদ নিজে যেমন লাভবান হয়েছে তেমনি এলাকায় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। ভবিষ্যতে আবদুর রশিদকে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
মাছের পোনা উৎপাদনের মাধ্যমে পুরো জেলার মাছের পোনার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এলাকা থেকে দারিদ্রতা ও দুর করার স্বপ্ন দেখছেন আবদুর রশিদ।
