parbattanews

রাখাইনের কিয়াউকফিউ সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে সম্পন্নের ঘোষণা মিয়ানমারের

রাখাইন রাজ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের মধ্যেও কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন সামরিক সরকারের উপ-রাষ্ট্রপতি উ নিয়ো সাও। কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর হলো মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

৩ জুলাই নেপিডোতে অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিষয়ক কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে উ নিয়ো সাও বলেন, বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন কিয়াউকফিউ ও দাওয়েই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, এসব প্রকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে সামরিক সরকার বারবার বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বললেও, কিয়াউকফিউ এলাকায় চলমান তীব্র সংঘাতের কারণে বাস্তবে প্রকল্প শুরু করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কিয়াউকফিউর এক বাসিন্দা বলেন, “সামরিক সরকার বারবার প্রকল্পের কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো প্রস্তুতি নেই। এলাকায় তীব্র যুদ্ধ চলছে, তাই এমন বড় প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের কথা বলা অবাস্তব মনে হয়। সম্ভবত চীন সফরে দেওয়া প্রতিশ্রুতির পরই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।”

বর্তমানে কিয়াউকফিউ শহরের তাউংমাওগ্যি নৌঘাঁটির আশপাশ এবং চীনা প্রকল্পগুলোর নিকটবর্তী এলাকায় সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

চীন সফরের সময় সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এছাড়া ১৭ জুন প্রকাশিত চীন-মিয়ানমার যৌথ ঘোষণাতেও কিয়াউকফিউ প্রকল্প দ্রুত শুরু করার কথা উল্লেখ করা হয়।

কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পটি রাখাইনের মাদে দ্বীপ ও রামরি দ্বীপ এলাকায় চীন-মিয়ানমারের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন একটি কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্প। এটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিদেশি প্রকল্প পর্যবেক্ষণকারী এক রাখাইন বাসিন্দা বলেন, “সামরিক সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে আরাকান আর্মির সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চায়, যাতে চীনের সমর্থন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে পারে। অন্যদিকে, প্রকল্প এলাকার আশপাশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের ভূমিকা উপেক্ষা করে কিছুই করা সম্ভব নয়। তাই কোনো না কোনো সমঝোতা লাগবেই।”

বর্তমানে সামরিক সরকার চীনের সঙ্গে কিয়াউকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর ও মুসে–মান্দালয় রেলপথ প্রকল্প এবং ভারতের সঙ্গে কালাদান বহুমুখী পরিবহন প্রকল্প ও ভারত–মিয়ানমার–থাইল্যান্ড ত্রিপক্ষীয় মহাসড়ক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

৩০ জুন নেপিডোতে এক সংবাদ সম্মেলনে সামরিক সরকারের মুখপাত্র ডা. খাইন খাইন সো বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে চীন ও ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত প্রধান অবকাঠামো প্রকল্পগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করা হবে।

তিনি আরও স্বীকার করেন যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে মান্দালয়–কিয়াউকফিউ রেলপথ প্রকল্প আপাতত স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে, গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএসপি-মায়ানমার বিশ্লেষণ করেছে যে, মিন অং হ্লাইং ভারত ও চীন সফরে বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায়, এসব প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এলাকায় সামরিক অভিযান ও সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।

Exit mobile version