parbattanews

রাঙামাটিতে উক্য চিং মারমার সৎকার সম্পন্ন

আজ ২৩ জুলাই ২০২৫ রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার স্থানীয় শ্মশানে উক্য চিং মারমার সৎকার সম্পন্ন হয়। এ উপলক্ষে উক্য চিংদের বাড়িতে ছুটে এসেছেন তাদের আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশি, এলাকার পাহাড়ি-বাঙালি সবশ্রেণি গোত্রের মানুষ।

আমাদের রাজস্থলী প্রতিনিধি আজগর আলী খান জানান, পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজন ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিধি, পাড়াপ্রধান, মসজিদের ইমাম, উক্য চিংয়ের সহপাঠ, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উক্য চিং মারমার সৎকার উপলক্ষে তাদের বাড়িতে উপস্থিত হয়েছে। এখানে তাদের ধর্মীয় সকল নিয়মাচার পরিপালন শেষে লাশ দাহ করার জন্য স্থানীয় শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

উক্য চিং মারমার আগের স্কুল রাঙামাটি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি টিচার শারমিন আক্তার পার্বত্যনিউজের এ প্রতিনিধিকে বলেন, 'উক্য চিং মারমা আমার প্রিয় ছাত্রদের একজন ছিল। অত্যন্ত মেধাবী এই শিক্ষার্থী জীবনে অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখত। এজন্য তার অভিভাবকরা তাকে ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন।'

উক্য চিং মারমার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে ছুটে এসেছেন স্থানীয় পাড়াপ্রধান ক্য চিং মং মারমা। ছুটে এসেছেন স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, উক্য চিং মারমা খুবই শান্ত প্রকৃতির মেধাবী একটি ছেলে ছিলো। আমরা সর্বদাই তার কথা ও আচার-আচরণে মুগ্ধ ছিলাম। আল্লাহর কাছে আমি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি এবং তার পরিবারের সবার প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

আমাদের প্রতিনিধি আরো জানান, ঢাকা থেকে গতকাল উক্য চিং মারমার মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছলে সন্ধ্যা থেকেই তাদের বাড়িতে শোক-সমবেদনা জানাতে উপস্থিত হন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। সন্ধ্যায় উক্য চিংয়ের মরদেহবাহী এম্বুলেন্স গ্রামে পৌঁছলে আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসীদের আহাজারীতে বাঙালহালিয়ার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু খবর শুনে তাকে দেখতে দুর দুরান্ত থেকেও অনেক মানুষ ছুটে এসেছে। কেউ যেন এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না।

উল্লেখ্য, সোমবার বেলা ১টায় ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ ভবনে বিমান বাহিনী একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্থ হয়ে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেখানেই স্কুলে অবস্থান করছিলো ৭ম শ্রেণির ছাত্র রাঙামাটির ছেলে উক্য চিং মারমা। দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে শিশুটি ঢাকা জাতীয় বার্ণ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো। সেখানেই অবশেষে মারা যায় উক্য চিং মারমা।

Exit mobile version