parbattanews

রাঙামাটিতে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

ছবি রাঙামাটি প্রতিনিধি।

রাঙামাটি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওসমান গণি তাঁর দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে ঘরে ঢুকতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ তুলেছেন ওই কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার মিতু।

তাহমিনা আক্তার মিতু বলেন, “আমি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামের মনতাছের রহমানের মেয়ে। আমি ও আমার ভাই পড়াশোনার জন্য রাজশাহীতে থাকাকালীন সময়ে ওসমান গণির সঙ্গে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর কিছু কাছের বন্ধুর উপস্থিতিতে আমরা দুজন ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন করি। কিছুদিন পর আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। এ বিষয়ে তাঁকে জানালে তিনি পেটে থাকা বাচ্চা ফেলে দিতে আমাকে চাপ দেন। আমি তাঁকে দেশের বৈধ আইন অনুযায়ী কাবিন করার জন্য বললেও তখন তিনি শর্ত জুড়ে দেন যে বাচ্চা রাখতে পারবেন না। তখন আমি তাঁর পরামর্শে পেটের বাচ্চা নষ্ট করে ফেলি।

দুই পরিবারের সম্মতিতে ২০১৯ সালের ২ আগস্ট আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। আমাদের বিয়ের দুই মাসের মধ্যে পুনরায় আমি অন্তঃসত্ত্বা হই। বর্তমানে ওই শিশু কন্যার বয়স ৬ বছর। এছাড়া আমার আরও একটি দুই বছরের শিশু কন্যা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “বিয়ের পর আমার সুখের জন্য আমার বাবা প্রায় তিন লাখ টাকার আসবাবপত্র আমার স্বামীকে উপহার দেন।

এদিকে আমার স্বামী বিসিএস পরীক্ষায় পাস করার পর কৃষি বিভাগে চাকরি পান। তাঁকে সম্প্রতি রাঙামাটি সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। সেই সুযোগে বাড়ির সব আসবাবপত্রসহ তিনি আমাদের নিয়ে রাঙামাটি জেলায় চলে আসেন। এরপর গত রমজানের ঈদের ছুটিতে আমরা সবাই বাড়িতে যাই। বাড়িতে গিয়ে শ্বশুরের মোবাইল দেখে জানতে পারি, তিনি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিয়ে করেছেন।

এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সত্যতা স্বীকার করেন। বর্তমানে তিনি আমার দুই কন্যাসহ আমাদের কোনো খোঁজ নিচ্ছেন না এবং ভরণ-পোষণও দিচ্ছেন না। আমি রাঙামাটিতে তাঁর কর্মস্থলের কোয়ার্টারে ফিরে আসলে আমাকে ও আমার মেয়েদের সেখানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। বর্তমানে আমি খুব কষ্টে দিনযাপন করছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ছয় বছরের শিশু কন্যাও উপস্থিত ছিল।

Exit mobile version