ঈদের ছুটি শেষ হলেও ঈদের আমেজ এখনো শেষ হয়নি। প্রতিদিন রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের আগমন ঘটছে। তবে আমেরিকা-ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের কারণে সারাদেশের ন্যায় রাঙামাটিতে তীব্র জ্বালানি তেলের সংকটের অজুহাতে আগত পর্যটকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। যে কারণে চলতি মৌসুমে পার্বত্য এ জেলায় যে পরিমাণ পর্যটক আসার কথা ছিল, তেল সংকটের কারণে আশানুরূপ পর্যটকের সমাগম হয়নি।
প্রতিদিন জেলা শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য ভিড় হচ্ছে। কেউ তেল পেয়ে খুশি, কেউ না পেয়ে বেজায় চটছেন। এটা এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে ছোট গাড়ি করে আসা (কার, মাইক্রো, মোটরসাইকেল) পর্যটকরা তেলের ভয়ে আসতে চাইছেন না। যারা আসছেন, তারা তেল সংকটের ঘেরাটোপে পড়ে চরম বিপাকে পড়ছেন। বেড়ানোর চেয়ে তেলের অপেক্ষা করতে করতে দিন পার করতে হচ্ছে তাদের।
রাঙামাটি শহরে বেড়াতে আসা পর্যটক সুজন আহমেদ বলেন, মোটরসাইকেল করে নতুন বউ নিয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে রাঙামাটিতে ঘুরতে এসে বিপদে পড়েছি। তেল না পেয়ে কোথাও ঘুরতে পারছি না। পাম্পগুলোতে দাঁড়িয়ে তেলও নিতে পারিনি।
পর্যটক আনিস মাহমুদ বলেন, ঢাকা থেকে প্রাইভেট কারে করে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসে এখানে কষ্টে পড়েছি। কোথাও তেল পাচ্ছি না।
এদিকে জেলার পর্যটন নগরী সাজেকে পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। তবে সেখানে তেলের সংকটের কারণে আশানুরূপ পর্যটক আসতে পারছে না।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, সাজেকে গত এক সপ্তাহে হাজার তিনেক পর্যটকের সমাগম হয়েছে। তেলের তীব্র সংকট সৃষ্টি হওয়ায় অনেক পর্যটক সাজেকে আসতে পারছে না। যে মৌসুমে পাঁচ হাজার পর্যটক আসার কথা, সেখানে আশানুরূপ পর্যটকের সমাগম ঘটছে না তেলের কারণে।
তিনি আরও বলেন, তেল সংকটের অজুহাতে আগত পর্যটকদের কাছ থেকে যাতে হোটেলে থাকা এবং খাবারের বিল অতিরিক্ত নেওয়া না হয়, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি। পর্যটকদের সেবায় আমরা প্রস্তুত আছি।
রাঙামাটির সিম্বলখ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকরা আনন্দ-হৈহুল্লোড়ে সময় কাটাতে দেখা গেছে। ছবি, সেলফি তুলে নিজেদের আনন্দ জানান দিচ্ছেন।
আশির দশকে দুই পাহাড়ের সংযোগ ঘটিয়ে কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতুটি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন তত্ত্বাবধান করে থাকে। পর্যটকদের প্রবেশের জন্য ৩০ টাকা মূল্যের টিকিট বিক্রি করা হয়।
পর্যটন করপোরেশন রাঙামাটি শাখার ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ‘রাঙামাটি শহরে হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। পর্যটকদের সমাগম বেশ ভালো। প্রতিদিন গড়ে দুই-তিন হাজার পর্যটকের সমাগম হচ্ছে।’
রাঙামাটি ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে রাঙামাটি ঘুরে যেতে পারেন, সেজন্য নৌপথে ও সড়কপথে ট্যুরিস্ট পুলিশের মোবাইল টিম রয়েছে। নৌপথে ভ্রমণের জন্য প্রতিটি ট্যুরিস্ট বোটে লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে,’ বলে যোগ করেন তিনি।
