একটানা অব্যাহত বৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রভাহিত হওয়ায় গত তিনদিন ধরে পানি বন্দি রয়েছে রাঙামাটির ৭টি উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি ডুবে যাওয়ায় ওইসব এলাকার মানুষেরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের আশ্রয়ের জন্য ২৪৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
রাঙামাটি জেলা শহরের শান্তিনগর, রসূলপুর, ব্রাক্ষণটিলা, পৌর কলোনী, আসামবস্তি, ব্রাক্ষণটিলা, পাবলিক হেলথ এলাকা হ্রদের পানিতে তলিয়ে গেছে।
বাঘাইছড়ির উপজেলার রূপকারী ইউনিয়ন, মাস্টারপাড়া, মধ্যম পাড়া, হাজী পাড়া, মাদ্রাসা পাড়া, এফ ব্লক, বটতলী, আমতলী ইউনিয়নসহ তৎসংলগ্ন নি¤œাঞ্চল হ্রদের জলে ডুবে গেছে।
বৃহস্পতিবার থেকে সেনাবাহিনী সাজেকের বাঘাইহাট এলাকায় বন্যাদুর্গম অর্ধশতাধিক মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের খাবার বিতরণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
লংগদু উপজেলার ঝরণা টিলা,ভাসাইন্যাদম ইউনিয়ন,বগাচত্ত্বর ইউনিয়নের জালিয়া পাড়া,গুলশাখালী ইউনিয়নের সোনাগাঁও পাড়া, মাইনী ইউনিয়নের এফআইডিসি বড় কলোনী, বিলাইড়ি উপজেলা সদর, ধূপ্পারছড়, বহলতলী, বাঙ্গালকাটা এলাকাসহ নদীর তীরবর্তী নি¤œাঞ্চল, জুড়াছড়ি উপজেলা, কাপ্তাই উপজেলা এবং নানিয়ারচর উপজেলার নি¤œাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকা হ্রদের পানিতে তলিয়ে গেছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাঙামাটি সদর, নানিয়ারচর, লংগদু এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন এবং রাঙামাটি ও বাঘাইছড়ি পৌরসভা মিলে মোট ৮১টি গ্রামের বাসিন্দারা পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। লংগদু এবং এবং বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং দুই হাজার কেজি চাল বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত বন্যার্তদের সহায়তায় ২৪৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে খোলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাঙামাটি, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, লংগদু উপজেলা বন্যায় ৯৮হাজার হেক্টর ফসলি জমি, ৪৩টি পুকুর, ৬১টি সড়ক এবং ৯টি হাটবাজার হ্রদের পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে হ্রদের পানিতে ডুবে যাওয়া জুড়াছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল উপজেলার নি¤œাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেলেও ক্ষয়-ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারিনি প্রশাসন।
এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্ণফুলী নদীতে স্রোত থাকায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনার ফেরী চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফেরী চলাচল বন্ধ থাকায় বান্দরবান জেলা, রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই উপজেলা এবং চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। যে কারণে ওসব অঞ্চলের মানুষেরা চরম ভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানি রয়েছে ১০৮দশমিক ৭০ ফুট মিনস সী লেভেল। ১৬টি জলকপাট সাড়ে তিনফুট খুলে সেকেন্ড ছাড়া হচ্ছে ৬৮ হাজার কিউসেক পানি।
স্থানীয় সরকার বিভাগ রাঙামাটির উপ-পরিচালক মো. মোবারক হোসেন বলেন,বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
