parbattanews

লংগদুতে মৃত বন্যহাতির শুঁড় কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় মারা যাওয়া একটি বন্য হাতির শুঁড় ও একটি পা কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার গভীর রাতে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার সকালে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.শরিফুল ইসলাম জানান, “রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। সঙ্গে থাকা স্ত্রী হাতিটি অন্যত্র সরে যায়,এবং এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা মৃত হাতিটির শুঁড় ও সম্পূর্ণ একটি পা কেটে নিয়ে যায়। সকালে ঘটনাস্থলে আমাদের টিম পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে হাতিটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

রাঙামাটি জেলার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. দেবনাথ চাকমা ও লংগদু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.সৌরভ সেনের যৌথ তত্ত্বাবধানে হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ডা. দেবনাথ চাকমা জানান, হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নমুনা ঢাকায় পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

ময়নাতদন্ত শেষে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে হাতিটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পাহারার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে, রোববার সকালে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা একটি মৃত হাতির দেহ দেখতে পেয়ে বন বিভাগকে অবহিত করেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় সূত্র ও বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। ২০২৪ সালে প্রথম অসুস্থ হওয়ার পর বন বিভাগ ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চিকিৎসক দল চিকিৎসা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলে। চলতি বছরেও দুই দফায় অসুস্থ হলে পুনরায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রায় ৬৫ বছর বয়সী এ হাতিটি ছিল ওই এলাকার অন্যতম বৃহৎ ও বয়স্ক বন্য প্রাণী।

এদিকে, এমন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

Exit mobile version