রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে সাপছড়ি এলাকায় ঢালু সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে অন্তত ১৯ জনআহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান।
প্রত্যক্ষদর্শী বরাতে জানা যায় , ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি নানিয়ারচর থেকে চট্টগ্রামের দিকে রওনা দেয়। পথে সাপছড়ি এলাকার একটি ঢালু অংশে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি পাশের পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই বাসটির চালক পালিয়ে যান।
আহত দুইজন যাত্রী জুই চাকমা ও রাহুল চাকমা জানান, বাসে থাকা অধিকাংশ যাত্রীই চট্টগ্রামের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিক। বাসটি হঠাৎ করেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, এতে অনেকেই গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান।
কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছে দেখা যায়, স্থানীয়রা ইতোমধ্যে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। গাড়ির ভেতরে কেউ আটকা পড়েনি বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম বলেন, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা অক্ষত আছেন, তাদের অন্য একটি বাসে করে চট্টগ্রামে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর জানান, আহত ১৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ১০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। ৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
