parbattanews

রাঙ্গামাটির সাজেকে আরো ১১গ্রামে হামে আক্রান্ত দেড় শতাধিক

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দূর্গম ১১গ্রামে নতুন করে দেড় শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। ইতোপূর্বে ওই এলাকায় আট শিশু প্রাণ হারায়।

২৫ মার্চ বিজিবি ও সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে হামে আক্রান্ত ৫ শিশুকে।

সাজেক ইউনিয়নের নতুন আক্রান্ত গ্রাম হচ্ছে ভুয়াছড়ি, কজইতলী,কজইছড়ি, শিলছড়ি, লাম্বাবাক, তালকুম্বা, বেতবুনিয়া, শীব পাড়া, বড়ইতলী, সাত নং পাড়া, ডেবাছড়া ও উজানছড়ি গ্রামে নতুন করে দেড় শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

আক্রান্ত এলাকার সাতনং পাড়ার কার্বারী(গ্রাম প্রধান) দয়াল ত্রিপুরা বলেন, গত ২দিন থেকে আমার এলাকায় মোট ষোল জন হাম রোগে আক্রান্ত হয় এবং তারা সকলই ১-৮বছরের শিশু। তার মধ্যে একই পরিবারের চারজনও রয়েছে।

আক্রান্ত চার শিশু রনিতা(১), মাতই(৩),মল্লিকা(৪),অকুল(২)এর মা প্রতিমালা জানিয়েছে, গতকাল সকালের দিকে চার জনের শরীরে হটাৎ জ্বর উঠে এরপর রাত থেকেই শরীর লাল হয়ে যায় এখন পর্যন্ত তাদের কোন ঔষধ কাওয়ানো হয়নি শুধু গরম পানি খাওয়ানো হয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ জানান, আগে থেকেই সেখানে আমাদের দুইটি মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং নতুন আক্রান্তের খবর পেয়ে আমরা ডা. বিষ্ণুপদ দেব নাথ এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আরেকটি চিকিৎসক দল পাঠিয়েছি।

রোববার(৩০ মার্চ) আক্রান্ত শিশুদের পুরোদমে চিকিৎসা দেয়া শুরু হয়েছে। আশা করছি, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা জানান, তার ইউনিয়নের ছয়টি হামে আক্রান্ত শিশুদের টিকা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক দল কাজ শুরু করেছে।

সাজেকে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ফেব্রুয়ারিতে। বাঘাইছড়ি উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গম এই ইউনিয়নের তুইচুই ও শিয়ালদাহসহ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে রোগটি ছড়ায় মহামারী আকারে। এতে এক মাসের ব্যবধানে আট শিশু মারা গেছে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় সর্বশেষ ২৩ মার্চ প্রাণ হারায় সাজেক ইউনিয়নের লুঙথিয়ান পাড়ার খেতবালা ত্রিপুরা (১৩) নামে এক শিশু। ২২ মার্চ প্রাণ হারায় গোরাতি ত্রিপুরা (৯)। এর অগে একই মাসের ব্যবধানে আরও প্রাণ হারায় ছয়জন।

এর আগে সাজেক ইউনিয়নের অরুণপাড়ায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। এতে ১১৭জন শিশু আক্রান্ত হয়।

২৬ ফেব্রুয়ারি হামে প্রথম প্রাণ হারায় সাগরিকা ত্রিপুরা (১৩)। তখন খবর পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমদের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল যায় আক্রান্ত এলাকায়।

পরে অরুণপাড়াসহ পাঁচটি গ্রামে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও সেবা দেয়া হয়। আক্রান্ত শিশুদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে, ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরীক্ষাগারে। পরীক্ষায় হাম সনাক্ত হয়।

Exit mobile version