রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে পাহাড়ি ফল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, আমরা চাই রাজধানী থেকে একটি ফল হাব তৈরি করতে, যেখানে ঢাকাবাসী সরাসরি পাহাড়ি ফলের স্বাদ পাবে।
মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গতকাল ১ জুলাই মঙ্গলবার পার্বত্য উপদেষ্টা আরো বলেন, রাজধানীর ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে আমরা যাতে সুস্থ থাকতে পারি, এ কথাটি মাথায় রেখে আমরা অর্গানিক ফলের ভান্ডার নিয়ে পাহাড়ি ফল মেলার আয়োজন করেছি। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণও এই মেলার আয়োজনে মনে প্রাণে সোচ্চার আছেন। আমরা এ পাহাড়ি ফল মেলার মধ্য দিয়ে সবাই একাকার হতে চাই।
উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা আরও বলেন, পাহাড়ি নারীরা অর্গানিক ফল চাষে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। মন্ত্রণালয় তাঁদের জন্য নানা প্রণোদনা ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের পাহাড়ে এ বছর প্রচুর আম, কাঠাল, কলা, আনারস হচ্ছে। আগে বছরে একবার আনারসের উৎপাদন হতো। আর আমরা এখন আপনাদের আনারস উপহার দিচ্ছি বছরের দুবার। এটা এগ্রিকালচারাল ডিপার্টমেন্টের বৈজ্ঞানিক গবেষণার কারণেই এটা সম্ভব হচ্ছে।
পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা আরো বলেন, পাহাড়ি ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, এগুলো আমাদের অর্গানিক খাদ্য ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন, পাহাড়ি ফল মেলার এবারের আয়োজন যেন শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, বরং পাহাড়ের মাটির ঘ্রাণ, নারীর শ্রম, আর প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যের এক অপূর্ব সাক্ষাৎ।
পাহাড়ি ফল মেলা উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সরকারের সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল খালেক। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান সুদত্ত চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই ওখাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা।
