parbattanews

রাজবিলার শতাধীক পরিবার ঝুঁকির মুখে, পাহাড় ধসে যেকোন মুহূর্তে প্রাণ নাশের আশঙ্কা

rajbila

রাজভিলা থেকে ঘুরে এসে, মোঃ আজগর আলী খান:
বান্দরবান জেলার সদর উপজেলা হলেও যেন বাস্তটি ভিন্ন। রাজবিলা ইউনিয়নের ৩নং ইসলামপুর ওয়ার্ডের শতাধীক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করলেও প্রশাসনের টনক নড়েনি। অতিবৃষ্টি হলে এসব বসবাসকারিরা বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়তে পারে, যাতে প্রাণ নাশের আশঙ্কা আছে বলে স্থানীয়রা জানান।

গত কয়েক বছর ধরে এলাকাগুলোর আশপাশের পাহাড়ের ঢলের পানি চলাচলের ড্রেন না থাকায় পাড়াগুলোর দুই পাশ দিয়ে পানি চলাচলের রাস্তা করে দেয়া হলে এক বছরের ব্যাবধানে পরিবারগুলো বর্তমানে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যা চোখ না দেখলে বিশ্বাস করা বড়ই দায়।

ইসলামপুর বাজার এলাকাটির পশ্চিম ও উত্তর পার্শ্বে বসবাসকারী মোঃ আজিজ মোল্লা, আব্দুস সালাম, প্রতিবন্ধী মোঃ রফিক, থুইবা অং মারমা, বেহুলা বেগম, মোঃ শিকদার, আপ্রুমা মারমা, মাউচিং মারমা, মোঃ জামাল সহ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার প্রধানরা এ প্রতিবেদককে জানান, আমাদের এমন কোন জায়গা জমি নেই যে আমরা এই ঝুঁকির মধ্যে বসবাস না করে অন্য স্থানে গিয়ে ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘর বেধে বসবাস করবো।

তারা আরও বলেন, রাতের অন্ধকারে যখন মেঘ একটু কালো দেখি তখন আমাদের চোখে ঘুম আসেনা। বাধ্য হয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে রাতভর বসে থাকতে হয়। আমাদের এমন কিছু নেই যে, ভাঙন এলাকায় রিটার্নিং ওয়াল ও ড্রেন নির্মাণ করে আমাদের বসতঘরের ভিটামাটি ঠেকাবো।

এদিকে হালিম মোল্লা তার পরিবার নিয়ে ভাঙনের ভয়ে বর্তমানে অন্যত্র ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে। ভাঙনের শিকার হয়ে মোঃ শিকদার(৬২), মোঃ জামাল(৪০), মোছাম্মত বেহুলা বেগম(৩২), আজিজ মোল্লা (৪২), প্রতিবন্ধী মোঃ রফিক (৪৪) পরিবার পরিজন নিয়ে বর্তমানে নিঃস্বপ্রায় জীবনযাপন করছে।

এবিষয়ে ৩নং ওয়ার্ডের ইউ পি সদস্য মোঃ জয়নাল আবেদীনের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমি বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আমার সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান মহোদ্বয়কে ঘটনাস্থলে এনে পাড়াটির দূরাবস্থা দেখানো হয়েছে এবং চেয়ারম্যান মহোদ্বয়ের নিকট লিখিতভাবে দুইটি রিটার্নিং ওয়াল ও ড্রেন নির্মাণের জন্য আবেদনও করেছি।

১নং রাজবিলা ইউপি চেয়ারম্যান ক্য সিং সুই মারমার সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। অথচ ইউনিয়ন পরিষদের সিমিত বরাদ্দ থাকায় উক্ত ভাঙনস্থলে রিটার্নিং ওয়াল ড্রেন নির্মাণ করা সম্ভব না হলেও আমি অনতিবিলম্বে উপরস্থ মহলের সহযোগিতা কামনার মাধ্যেমে বিষয়টির যথাযথ সমাধানে একটি রটিার্নিং ওয়াল ও ড্রেন নির্মাণের জন্য ভাঙনগুলো ঠেকাতে এবং পরিবারগুলোর জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বাত্তক চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে এলাকাবাসির মতামতের প্রেক্ষিতে আরও জানা যায়, অতিসত্তর ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে রিটার্নিং ওয়াল ও ড্রেন নির্মাণ করা না হলে লামা ও চট্রগ্রামের মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

এবিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুল হক চৌধুরী এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি সদ্য বান্দরবান জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেছি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর কোন আবেদন এখনো পাইনি। পেলে অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইসলামপুর ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হল ইসলামপুর বাজার এলাকা, কাদেরটিলা, হাকিমটিলা ও বালুমোড়া মুসলিমপাড়া।

Exit mobile version