parbattanews

রাজস্থলীতে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসব

পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘সাংগ্রাই’ উৎসব। পুরানো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি ও পাপ মৈত্রীর জলে ধুয়ে-মুছে যাবে, এমন বিশ্বাস থেকে ঐতিহ্যবাহী জলকেলি বা পানি খেলায় মেতে ওঠেন তরুণ-তরুণীরা। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব বৈসাবিকে ঘিরে পুরো পাহাড়ে এখন আনন্দের রং ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজস্থলী খাগড়াছড়ি পাড়ায় সাংগ্রাই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী জলকেলি বা পানি খেলায় মেতে উঠেছেন মারমা তরুণ-তরুণীরা।

শনিবার (১৮এপ্রিল) দুপুর থেকে রাঙ্গামাটি রাজস্থলী উপজেলার খাগড়াছড়ি পাড়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব শুরু হয়। সকালে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে কেয়াং ঘরে ভান্তে দের জন্য সোয়াইনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। এরপর দুপুর ১২টায় উপজেলার ১ নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের খাগড়াছড়ি পাড়া মাঠ প্রাঙ্গণে মারমাদের এই সাংগ্রাই উৎসবের উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু। এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি বাবুল, যুগ্ন সম্পাদক দেবজ্যোতি চাকমা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাষ্টার খলিলুর রহমান শেখ,সিনিয়র সহ সভাপতি আবুল হাসেম,ছগির আহম্মদ, চাথোয়াই মারমা , জাহেদুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মঞো মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবলু মিয়া, রাজস্থলী থান ওসি খালেদ হোসেন, যুগ্ন সম্পাদক এমদাদুল হক মিলন, রফিক আহম্মদ,জেলা বিএনপির সদস্য মিসাচিং মারমা, নুরুল আলম মেম্বার, হ্লাচিংমং মারমা,মিদুসে মারমা, বিষু দে, যুবদলের আহবায়ক শামীম আহম্মেদ রুবেল, উজ্বল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, ছাত্রদলের আহবায়ক নাইমুল ইসলাম রনি, আজিজুর রহমান রুবেল, মহিলা দলের সভাপতি প্রেমা তালুকদার, জেলা সদস্য লাকি মারমা, বেলাল হোসেন, উদয় মেম্বার, সহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ওয়ার্ডের বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মারমা যুবকদের উদ্যোগে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। বর্ণিল সাজে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি পাড়ায় পাড়ায় প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নিজেদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও গান পরিবেশন করেন মারমা শিল্পীরা।

সাংগ্রাই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল জলোৎসব বা জলকেলি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু এই জলকেলির শুভ সূচনা করেন। এরপর তরুণ-তরুণীরা সামনের দিনগুলোতে অনাবিল সুখ আর শান্তি কামনায় একে অপরের দিকে পানি নিক্ষেপ করে উল্লাস প্রকাশ করেন।

মারমা জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস, এই পানি উৎসবের মধ্য দিয়ে অতীতের সব গ্লানি মুছে যাওয়ার পাশাপাশি তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে তাদের জীবনসঙ্গী বেছে নেন। এছাড়াও উৎসব উপলক্ষে নানা খেলাধুলা, ওপেন কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

বৈসাবি উৎসব উপভোগ করতে এ বছর রাজস্থলীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লা গ্রাম থেকে বিপুলসংখ্যক নারী পুরুষ সমবেত হয়েছেন। বর্ণিল এই আয়োজন দেখে তারা অভিভূত। একসময় এই উৎসব শুধু পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য হলেও এখন তা সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বৈসাবি উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ে সহাবস্থান নিশ্চিত হবে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করেন আয়োজক ও জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকলে।

Exit mobile version