
নিজস্বসংবাদদাতা, রামগড়:
রামগড়ে ঋণের জন্য ঘুষ দাবি করায় সমাজসেবা বিভাগের দু’জন মাঠকর্মীকে তিন ঘন্টা আটকে রেখে নাজেহাল করেছে ক্ষুব্ধ জনগণ। অবশেষে উপজেলা নির্বাহি অফিসারের হস্তক্ষেপে আটক কর্মচারিরা মুক্তি পান। আজ শনিবার রামগড় উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের জালিয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, রামগড় উপজেলা সমাজসেবা বিভাগের মাঠকর্মী পাইচানু মারমা ও বাহার উদ্দিন মজুমদার শনিবার সকাল ১০টার দিকে হাফছড়ি ইউনিয়নের জালিয়াপাড়াস্থ সমাজসেবা গণমিলনায়তন কেন্দ্রে গিয়ে ঋণের জন্য আবেদনকারীদের খবর দিয়ে আনেন। এসময় ৩০-৪০ আবেদনকারী উপস্থিত হয়ে ঋণের টাকা দিতে দাবী জানালে দুই মাঠকর্মী এতে অসম্মতি জানান। সমাজসেবা কর্মচারিরা ঋণ না দিয়ে আবেদনকারীদের জমাকৃত এক বছরের সঞ্চয়ের টাকা ফেরৎ নিতে বললে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন দুই মাঠকর্মীকে কেন্দ্রের অফিস কক্ষে আটকে রেখে নাজেহাল করেন এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে খবর দিয়ে আনতে বলেন। ক্ষুব্ধ লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে আটক কর্মচারিদের ভয়ভীতি দেখান। এ সময় কর্মচারিরা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আব্দুল জলিলকে মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেনি। পরে খাগড়াছড়ি জেলা সমাজসেবা বিভাগের উপ পরিচালককে ফোন করে ঘটনা জানানো হয় বলে আটক এক কর্মচারি জানান।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জালিয়াপাড়া প্রতিবন্ধি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল মোবাইল ফোনে রামগড় উপজেলা নির্বাহি অফিসারকে বিক্ষুব্ধ লোকজনের হাতে দুই কর্মচারি আটকের ঘটনা জানান। উপজেলা নির্বাহি অফিসার ঋণের জন্য আবেদনকারীদের অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই কর্মচারিকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানানোর পর বিক্ষুব্ধ লোকজন বেলা ১টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয় বলে প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল জানান।
ঘটনার শিকার সমাজসেবা বিভাগের মাঠকর্মী পাইচানু মারমা জানান, আবেদনকারীরা জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা হারে ঋণের দাবি জানান। কিন্তু ১৫ হাজার টাকার বেশী ঋণ দিতে অসন্মতি জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদেরকে আটকে রেখে নাজেহাল করে।
এদিকে প্রতিবন্ধি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল জানান, সমাজসেবা বিভাগ এক বছর আগে হাফছড়িতে দল গঠন করে সঞ্চয় জমা নেয়। দলে সদস্যরা ঋণের জন্য আবেদন করার পর নানা তালবাহানা দেখিয়ে তাদেরকে প্রায় তিন মাস পর্যন্ত ঘুরানো হচ্ছে। আজ শনিবার ঋণের টাকা না দিয়ে আবেদনকারীদের জমাকৃত সঞ্চয়ের টাকা ফেরৎ নিতে বললে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।
তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ঋণের আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১০ পার্সেন্ট হারে ঘুষ দাবি করেন। কিন্তু তারা এ ঘুষ দিতে রাজী না হওয়ায় তাদের হয়রানী করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৮-৯ আগে প্রতিবন্ধি কল্যাণ সমিতির প্রায় ৫০জন সদস্যকে ১০ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা ঋণ দেয়া হয়। জনপ্রতি ১০ হাজার হতে ২৫ হাজার টাকা হারে এ ঋণ দেয়া হয়। ঋণ গ্রহীতাদের কাছ থেকে ১০ পার্সেন্ট হারে প্রায় এক লক্ষ টাকা ঘুষ নেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। তিনি জানান, প্রথমে তারা ঘুষ দিতে রাজী না হওয়ায় তাদেরকে ৬-৭ মাস পর্যন্ত ঘুরানো হয়।
এ ব্যাপারে তারা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহি অফিসারকে অভিযোগ জানিয়েও কোন প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়ে ঋণ নিয়েছেন।
এব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আব্দুল জলিলের মোবাইল ফোনে কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।