কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া ও ঈদগড় এলাকার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনিয়ম, বয়সসীমা লঙ্ঘন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
জানা গেছে, গত ২৮ জুন ২০২৬ কক্সবাজারের বাইতুশ শরফে সাধারণ কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষার পরবর্তী কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের জাউজপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাওলানা জাবের আহমদের বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে জিআর-৩/২০২৪ এবং সিআর-৬১৬/২০২৪ নম্বরসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদনকারীর বয়সসীমা ১৮ থেকে ৪০ বছর নির্ধারিত থাকলেও তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য সনদে জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৮৫ উল্লেখ রয়েছে। সে হিসেবে নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করার পরও তিনি কীভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ৩, ৪, ৫ ও ১০ নম্বর শর্ত পূরণ নিয়েও তার বিরুদ্ধে আপত্তি রয়েছে। পরীক্ষায় তার রোল নম্বর ছিল ১১।
এছাড়া অভিযোগকারীদের দাবি, পরীক্ষার আগে টানা তিন দিন তিনি কক্সবাজারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কার্যালয়ের পাশের একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করেন এবং অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সহযোগিতা নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এ বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাওলানা মো. আবু তৈয়ব ও আব্দুর রহিম সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন কক্সবাজার জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় ৭০০ জন সাধারণ কেয়ারটেকার ও কেয়ারটেকার পদে প্রার্থী ওইদিন পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে রামুর কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া ও ঈদগড় এলাকার সাধারণ কেয়ারটেকার পদের জন্য অংশগ্রহণ করেন তিনজন-মাওলানা জাবের আহমদ, আব্দুর রহিম এবং মাওলানা মো. আবু তৈয়ব। অভিযোগকারীদের দাবি, অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে কৌশলে জাবের আহমদকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কক্সবাজারের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ সরওয়ার আকবর বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাওলানা জাবের আহমদ বলেন, “আমার বয়সের বিষয়টি সনদ অনুযায়ী রয়েছে। এ নিয়ে যা হওয়ার কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। তবে অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা নেওয়া, প্রভাব খাটিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া কিংবা অভিযোগে উল্লিখিত অন্যান্য অনিয়মের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
