parbattanews

রামুতে সালিশ চলাকালে হামলা, জনপ্রতিনিধিসহ আহত ৭

কক্সবাজারের রামুতে ৩ জন জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিতে সালিশ চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জনপ্রতিনিধিসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর একটায় রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন, ওই এলাকার ইসমাইলের ছেলে মো. শফি (৫৫), মো. শফির ছেলে মো. আলম (১৮), মো. শফির স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪৬), ইসমাইলের ছেলে ছানা উল্লাহ (৩০), আমান উল্লাহ (৪৫), মো. শফির ছেলে মোর্শেদ আলম (২৮) এবং ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম।

আহত মো. শফি জানিয়েছেন, তাদের পৈত্রিক বসত ভিটে নিয়ে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য পূর্ব ঘোষণামতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে শুক্রবার সকালে সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ শুরু করেন বিচারক ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন, ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম, সাবেক ইউপি সদস্য জহির উদ্দিন সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পরিমাপ শেষে উপস্থিত বিচারকগণ জুমার নামাজের পর সবাইকে প্রাপ্ত জমি বুঝিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। এসময় সুলতান আহমদের ছেলে হাকিম মিয়ার নেতৃত্বে একদল ভাড়াটে লোকজন এসে অতর্কিতভাবে বিচারকসহ প্রতিপক্ষের উপর হামলা শুরু করে। হামলাকারিরা দা, লাটি-সোটা নিয়ে উপস্থিত সবাইকে মারধর শুরু করে। এসময় দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইউপি সদস্য ফরিদুল আলমও মারধরের শিকার হন। হামলার পর ঘটনাস্থলে মূমূর্ষু অবস্থায় আহত ৬ জনকে উদ্ধার করে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

আহতরা জানান, হাকিম মিয়ার নেতৃত্বে হামলায় আরও অংশ নেন-তার ভাই নুরুল আলম, মিয়া হোছনের ছেলে মো. আলম ও জাফর আলম, স্ত্রী গুলজার বেগম, নুরুল হকের ছেলে সাহাব উদ্দিন, মৃত নুর আহমদের স্ত্রী নুর নাহার বেগম, সুলতান আহমদের স্ত্রী রিজিয়া আকতার, মেয়ে রাবেয়া বেগম, মোহাম্মদের মেয়ে মাইমুনা বেগমসহ আরও কয়েকজন ভাড়াটে লোকজন।

ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম জানিয়েছেন, জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পরিমাপও সম্পন্ন করেন। কিন্তু আকষ্মিকভাবে একটি পক্ষ প্রতিপক্ষের উপর হামলা শুরু করে। এতে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তিনি নিজেও শারীরিকভাবে আঘাত পেয়েছেন।

ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, কোন কারণ ছাড়াই দুপক্ষ হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। এটা দূঃখজনক।

এদিকে এ ঘটনায় আহত মো. শফি, মো. আলম, মমতাজ বেগম, ছানা উল্লাহ, আমান উল্লাহ, মোর্শেদ আলম বর্তমানে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। আহত মো. আলম চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএ আজমিরুজ্জামান জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে একটি বিচার চলাকলে হামলার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তবে এ ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ পাননি। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Exit mobile version