parbattanews

রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তার বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম বলেছেন, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আজ জাতীয় নিরাপত্তা শুধু ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা বা প্রচলিত সামরিক সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাইবার হামলা, সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, তথ্যযুদ্ধ, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের মতো বহুমাত্রিক হুমকি এর অন্তর্ভুক্ত।

মঙ্গলবার (৫ মে ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ এর অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বক্তব্যের শুরুতে মাননীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকেও স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সম্মেলনের দিকনির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হলে জনগণের সেবা আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি আধুনিক, মর্যাদাশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় নিরাপত্তা, সুশাসন এবং কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয় অপরিহার্য।

সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সুদৃঢ় সম্পর্ক দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এ সম্পর্কের গভীর শিকড় রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।

তিনি বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তা বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে—যার মধ্যে সাইবার হামলা, সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, জ্বালানি নিরাপত্তা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।

এ প্রেক্ষাপটে তিনি “সমগ্র সরকার পদ্ধতি” গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যার মাধ্যমে সম্ভাব্য শত্রুকে আগ্রাসন থেকে বিরত রাখতে নিশ্চিত করবে অর্থাৎ সক্ষমতার মাধ্যমে সম্ভাব্য শত্রুকে আগ্রাসন থেকে বিরত রাখবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, তারা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান জরুরি।

তিনি বলেন, জাতীয় প্রতিরক্ষা কেবল সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব নয়; এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব।

জেলা প্রশাসকদের পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন এবং একটি ঐক্যবদ্ধ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

Exit mobile version