উপজেলা প্রতিনিধি, পানছড়ি :
রিকসার প্যাডেল চাপলেই বাড়িতে চুলোয় আগুন জ্বলে।নিজের কোন ঘর-বাড়ি না থাকায় খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ৫নং উল্টাছড়ি ইউপির মোল্লাপাড়া গ্রামের শ্বশুর বাড়িতেই বসবাস। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে চোখে আর দেখতে পায় না তাই কনকনে শীত উপেক্ষা করে চোখে চশমা দিয়ে রিকসার প্যাডেল চাপতে চাপতেই বেরিয়ে পড়ে সাত সকালে। শুরু হয় জীবন চলার সংগ্রামের এক ভয়াবহ যুদ্ধ। তবে এ সংগ্রামী যুদ্ধ একটানা চালিয়ে যেতে পারেনা। কিছুক্ষন পর পর বিরতি দিতে হয় কারণ ৬/৭ বছর আগে রাজ মিস্ত্রীর কাজ করতে গিয়ে মাটি চাপায় তার একটি পা ভেঙ্গে যায় তাই এক পায়ে এখনো রড লাগানো। রড লাগানো পায়ে রিকসার প্যাডেল চাপতে খুব কষ্ট হয় বলে জানালেন পানছড়ির দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নাজিম উদ্দিন (২৮)।
এলাকার মুরুব্বী আসলাম কাজী জানালেন নাজিম উদ্দিন খুব ভালো ছেলে কিন্তু দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও পায়ে রড লাগানো থাকায় সে ভারী কোন কাজ করতে পারে না। স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ের দিকে তাকিয়ে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
জানা যায়, সাংসারিক জীবনে নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী হাসনারা বেগম এক মেয়ে নাদিয়া সুলতানা (৪) ও এক ছেলে মো: হাসাইন (২) রয়েছে। সে ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু তার একটাই বাঁধা ভাঙ্গা পা ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীতা নিয়ে কতটুকু অগ্রসর হতে পারবে।
এ ব্যাপারে পানছড়ি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংঘের সভাপতি জয়নাল আবেদীন খন্দকারের সাথে আলাপকালে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, নাজিম উদ্দিন প্রতিবন্ধী কল্যান সংঘের সাথে কখনো যোগযোগ করেনি তাই তার ব্যাপারে আমাদের জানা ছিল না। সে যোগাযোগ করলে প্রতিবিন্ধী কল্যাণ সংঘের সদস্যপদ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাদি দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
প্রতিবন্ধী নাজিম উদ্দিনের করুণ হাল ও দুর্দশার চিত্র যেন সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সু-দৃষ্টিতে আসে তাই আশা করছেন অভিজ্ঞ মহল।
