মিয়ানমারের আরাকানকে রোহিঙ্গাশূন্য করতে আরাকান আর্মি দমন-পীড়ন সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে না পারা কিংবা সীমান্ত দিয়ে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর আরাকান আর্মির দমন-পীড়ন নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন প্রকাশের পর এমনটাই আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সম্পর্কে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ‘রাখাইনের প্রায় ৯০ বা ৯০ শতাংশের বেশি এলাকা আরাকান আর্মির দখলে। যাদের মিয়ানমার সরকার সন্ত্রাসী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত করে। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা এখন তারাই দখলে রেখেছে। সেখানে রোহিঙ্গারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। মনে হচ্ছে তারা সম্ভবত আরাকানকে রোহিঙ্গাশূন্য করে ছাড়বে।’
এরই মধ্যে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এ শরণার্থী জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দেয়ায় পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ ও সহযোগীদের উদ্যোগে ২০২৫-২৬ দুই বছরের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান) নেয়া হয়। এ পরিকল্পনার প্রথম বছরের জন্য ৯৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার তহবিল আহ্বান করা হয়, যার মাধ্যমে কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা এবং উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় জনগণ মিলে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ উপকারভোগী হবেন। যদিও মার্চ পর্যন্ত পাওয়া গেছে মাত্র ৩৯ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ প্রায় ৫৮ শতাংশ ঘাটতি রয়ে গেছে।
এতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্যনিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, পানি ও স্যানিটেশন, আশ্রয়, সুরক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। খাদ্যসহায়তা যদি ব্যাহত হয়, তবে ৭৮ শতাংশ শরণার্থী (বিশেষ করে নারী ও শিশু) মারাত্মক অপুষ্টি ও অনাহারের শিকার হবে। স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে সেবা না থাকলে নারীদের প্রসবকালীন জটিলতায় মৃত্যু বাড়বে এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হবে।
বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে এ পরিকল্পনায় নতুন করে আসা দেড় লাখ রোহিঙ্গার আরো ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার প্রয়োজন। তাদের মধ্যে রয়েছে ৬৩ হাজার শিশু। অর্থায়ন না হলে তারা আরো বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ অবস্থায় বেশি চাপে পড়ছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে স্থানীয় বাংলাদেশীরাও নানা সংকটে রয়েছে। এ সংকট আগামী দিনে আরো ঘনীভূত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উৎস : বণিকবার্তা, ৩০ জুলাই ২০২৫
