টানা ৩ সপ্তাহের বর্ষণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত সংযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর থেকে আমতলী মাঠ পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ জনবহুল সড়কের বেশিরভাগ স্থানে মাটিধসে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সদর ইউনিয়নের চাকঢালা এলাকার প্রবেশপথে দক্ষিণসালামী পাড়া এলাকায় বড় আকারের ধ্বসে গিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধের উপক্রম দেখা দেয়। লাল পতাকা টাংগিয়ে সাবধানে চলাচলে আদেশ জারি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলে চাকঢালা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হলে সীমান্ত এলাকার সংঘাতময় পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ,সাদা ও চোরাচালান প্রতিরোধে টহলে সমস্যা হবে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন সীমান্তবর্তী চাকঢালা এলাকার হাজারো মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বাজারের ব্যবসায়ী ও কৃষকরা যাতায়াত করে থাকেন। এতে শুধু সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই বাড়েনি, চাকঢালার উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ছোট যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও বড় কোনো পণ্যবাহী গাড়ি আর এই সড়ক ব্যবহার করতে পারছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন এ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সড়কটি দুই বছর আগে সংস্কার করা হলেও তা ছিল পরিকল্পনাহীন ও অপর্যাপ্ত। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও ভাঙনের কবলে পড়ে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সচেতন মহলের মতে, সঠিকভাবে ড্রেনেজ এবং গাইডওয়াল নির্মাণের অভাবেই আজকের এই বিপর্যয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপি সাথারণ সম্পাদক আবদুল আলিম বাহাদুর,বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, চাকঢালা বাজারের ব্যবসায়ী মৌলানা ফরিদুল আলম,ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কামাল এবং মহিছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার মুহতামিম জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাশে ছড়ার পানি বেড়ে গিয়ে সড়কের মাটি সরে যায়। পাশে গাইড ওয়াল নেই। এ কারণে এ সড়কের ছড়া ও খালে গাইডওয়াল নির্মাণ সময়ের দাবী৷ আর না হয় একে একে পুরো সড়কটি বিলীন হয়ে যাবে।”
তারা আরও জানান, সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই সড়কটি দিয়ে ১১ বিজিবির নিকুছড়ি ও চাকঢালা বিওপি ক্যাম্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আশারতলী,জামছড়ি ও জারুলিয়াছড়ি সীমান্ত চৌকিতে বিজিবি সদস্যদের যাতায়াত, রসদ সরবরাহ এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম এই সড়কের উপর নির্ভরশীল।
এ বিষয়ে জানতে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের প্রশাসক মাহবুব এলাহী বলেন, “উপজেলার খাদ্যশস্য উৎপাদনের বড় একটি অংশ আসে চাকঢালা এলাকার গ্রামগুলো থেকে। ভাঙনের কারণে সেই পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এতে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এছাড়া সীমান্ত চলাচল অনেক বন্ধের উপক্রম দেখা দিয়েছে। এমন কি যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এ সব ভাঙ্গনে
সড়কটির দুরবস্থার বিষয়টি জানতে চাইলে ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম কফিল উদ্দিন কায়েস বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি। দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হবে।”
তবে এ সড়কের তদারককারী প্রতিষ্ঠান বান্দরবান জেলা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাখায়ত হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
