মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে লেবাননে যুদ্ধে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী দিপালী আক্তারের মরদেহ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে লেবাননের বৈরুত থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে।
বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
গত ৮ এপ্রিল বুধবার বৈরুতের হামরা এলাকায় নিজ কফিলের পরিবারের সঙ্গে অবস্থানকালে ইসরাইলের বিমান হামলায় দিপালী নিহত হন। একই হামলায় তার কফিল ও ওই পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য প্রাণ হারান।
মরদেহ গ্রহণ শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, নিহত দিপালীর পরিবারের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে মোট ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি কোনো অর্থই দিপালীকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তবুও শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সব বাংলাদেশির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। এ লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দিপালীসহ ৬ জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একজনের দেহাবশেষ পরিবারের সম্মতিতে সৌদি আরবে দাফন করা হয়েছে। আর ইরাকে নিহত একজনের মরদেহ ফ্লাইট জটিলতার কারণে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মরদেহ দেশে আনতে বিলম্ব হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মরদেহ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না থাকা এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লেগেছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে সৌদি আরবের সহায়তা এবং যুদ্ধকালীন নানা জটিলতা অতিক্রম করে সরকার দ্রুততম সময়ে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
দিপালী আক্তারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহমাদুল হক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার) দেওয়ান আলী আশরাফ এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাসস
