বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তাল সমুদ্রের জেরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে গত ১০ দিন ধরে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রলার ও সাধারণ নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় সওদা ও জরুরি প্রয়োজনে মূল ভূখণ্ড টেকনাফে এসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের শতাধিক বাসিন্দা।
দীর্ঘদিন টেকনাফের বিভিন্ন হোটেল ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আটকে থাকায় তীব্র আর্থিক সংকট ও ঘরে ফেরার আকুলতায় শেষমেশ নিরুপায় হয়ে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়েছেন এই অসহায় মানুষগুলো।
শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভা কায়ুকখালী ঘাট থেকে অন্তত ১৩৫-১৪০ জনকে নিয়ে একটি কাঠের সার্ভিস ট্রলার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
বর্তমানে সেন্টমার্টিন ও উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে উত্তাল সাগরের বিশাল ঢেউ ট্রলারটিকে গ্রাস করতে পারে জেনেও, অনেকটা ভাগ্যের ওপর ভরসা করেই প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিপজ্জনক নৌপথ পাড়ি দিচ্ছেন তারা।
সেন্টমার্টিনের সংবাদকর্মী নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১০ দিন পর সংশ্লিষ্টদের অবগত করে জীবন ঝুঁকি নিয়ে দেড়শতাধিক দ্বীপের বাসিন্দা ট্রলারযোগে রওয়ানা দিয়েছে।
টেকনাফ কায়ুকখালী নৌঘাটে সেন্টমার্টিন সার্ভিসের দায়িত্বে থাকা মো. জুবাইর বলেন, আটকে থাকা যাত্রীদের ট্রলারে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে। আল্লাহর রহমতে সবাই নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাবেন বলে আশা করছি।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য মাহফুজা আক্তার জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে আটকে থাকা সেন্টমার্টিনের বাসিন্দাদের ট্রলারে পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে খাদ্যসামগ্রীও দেওয়া হয়েছে। সেন্টমার্টিনের মানুষের কষ্ট কেউ বোঝে না। কাজ নেই, আয় নেই, অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, সেন্টমার্টিনের প্রায় ৩০০ পরিবারের জন্য খাদ্যসহায়তা পাঠানো হয়েছে। তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
