parbattanews

শীর্ষ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ও কালোবাজারি ডাইলু মাঝি কারাগারে

শীর্ষ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ডাইলু মাঝি প্রকাশ ডাইলু অবশেষে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। তার বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। সে কুতুপালং ২ নম্বর ক্যাম্পরর ব্লক ই-২ এর আশরাফ আলীর ছেলে।

মঙ্গলবার দুপুরে সে কক্সবাজার আদালতে আত্মসমর্পন করলে, তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন আদালত, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর চন্দন কুমার চক্রবর্তী। তার এই খবর রোহিঙ্গা শিবিরে ছড়িয়ে পড়লে স্বস্তি ফিরে আসে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোহিঙ্গা বলেন, ডাইলু রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠনের অর্থ যোগানদাতা। সেই হিসেবে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে কম দামে ক্যাম্পে সরবরাহকৃত ত্রাণের মালামাল ক্রয় করে উখিয়ার কয়েকটি সিন্ডিকেটের মাঝে বিক্রয় করে থাকে। তার এই নিয়ে কেউ মুখ খুললে গুম অথবা খুন হয়ে থাকেন, যার কারণে সহজে মুখ খুলতে চান না রোহিঙ্গারা। তবে তার এসব দেখাশোনা করে থাকেন কুতুপালং এলাকার আলী আকবর নামের এক ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ছৈয়দুল আমিন ডাইলু মাঝি’র বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩টি মামলা রয়েছে, যার নং-উখিয়া থানা মামলা নং-২১, তারিখ-০৯/০৬/২০২১, মামলা নং-২৯, তারিখ-০৯/০৫/২০২১, মামলা নং-৩৯, তারিখ-১৯/০৬/২০২১। অপহরণ সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে উখিয়া থানায় দায়ের করা মামলা যার নং-১৮, তাং-০৬/১০/২০২০। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে৷

ডাইলু মাঝি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিচিত কালোবাজারি ও অপরাধ জগতের মূলহোতা হিসেবে। টাকা ও খাবারের লোভ দেখিয়ে ক্যাম্পে নিজস্ব বাহিনীর সদস্য সংগ্রহ করে থাকেন সে। তাদের পরিচালিত সন্ত্রাসী বাহিনীতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে চাল ডাল তেল বিতরণ করছেন তারা।

শুধু তাই নয়, এই সন্ত্রাসীর হাতে একাধিক রোহিঙ্গা অপহরণ ও খুন হয়েছে, কিন্তু কেউ ভয়ে, আতঙ্কে তার বিরুদ্ধ মামলা করার সাহস পায়নি৷ বর্তমানে কালোবাজারির পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ও স্বর্ণ চোরাচালানের গডফাদার হিসেবে নাম লিখেছেন ডাইলু।

এমন তথ্য পেয়ে উখিয়ার বালুরমাঠ রোহিঙ্গা শিবিরে অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৮০০ কেজি চাউল, ২৬০ কেজি চিনি ও ৪১৯ লিটার তেল জব্দ করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।

রোববার (৮ আগস্ট) দুপুরে ২নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরে ওয়েস্ট এর ‘বিথ ব্লকে অবস্থিত রোহিঙ্গা রুবেল এবং জামালের শেড হতে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়।

এপিবিএন সূত্র জানায়, ডালু মাঝির গুদাম থেকে ১১৬ বস্তা চাউল, ২৬০ কেজি চিনি এবং ৪১৯ লিটার তেল জব্দ করা হয়।

এপিবিএন ১৪ এর অধিনায়ক মো. নাইমুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, এই চক্র রোহিঙ্গাদের জন্য বন্টনকৃত রেশনের দ্রব্য কালোবাজারি ও মজুদদারি করে। এরপর সেগুলো রোহিঙ্গা যুবকের মাঝে বণ্টন করে সন্ত্রাসী বাহিনীর জন্য সদস্য সংগ্রহ করে থাকেন।

Exit mobile version