parbattanews

শুভ্রাকে অপহরণ, হাতিয়ে নেয়া কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার পুলিশি প্রক্রিয়া

ভারতের ভোপালে আইএএস কোচিং অ্যাকাডেমির এক নারী পরিচালককে অপহরণ করে চার ঘণ্টা আটকে রেখে অস্ত্রের মুখে প্রায় এক কোটি ৮৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। টাকা যে অ্যাকাউন্টগুলোতে গিয়েছিল, সেগুলো দ্রুত ফ্রিজ বা লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং ওই টাকা ভুক্তভোগী শুভ্রা রঞ্জনকে ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দিল্লির ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শুভ্রা রঞ্জনকে ব্যবসার প্রসারের কথা বলে ভোপালে ডেকে এনে এই কাণ্ড ঘটায় তার এক পরিচিত ব্যবসায়িক সহযোগী প্রিয়াঙ্ক শর্মা।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রিয়াঙ্ক ভোপালে শুভ্রার অ্যাকাডেমির ফ্র্যাঞ্চাইজি চালাতেন এবং তিনি জানতেন যে পরিচালকের কাছে প্রচুর টাকা রয়েছে। সেই লোভ থেকেই তিনি দতিয়া ও রেওয়া থেকে ভাড়াটে লোক এনে এই সুপরিকল্পিত অপহরণের ছক সাজান।

গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে ভোপালের একটি পাঁচতারা হোটেল থেকে শুভ্রাকে তুলে নিয়ে বাগসেওয়ানিয়া এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে আটকে রাখা হয়। সেখানে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বাধ্য করা হয় তাকে।

তদন্তে পুলিশ এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। জানা গেছে, অপহরণের সময় শুভ্রা রঞ্জনের আর্তনাদ যাতে বাইরে না যায়, সেজন্য ওই ফ্ল্যাটে আগে থেকেই সুন্দরকাণ্ড পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের শব্দের আড়ালে চার ঘণ্টা ধরে চলে এই পণবন্দী দশা। শুধু টাকা আদায় করেই ক্ষান্ত হয়নি অপরাধীরা, পরিচালককে ভয় দেখাতে একটি সাজানো ভিডিও রেকর্ড করা হয়। সেখানে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বক্সের ভেতর আটকে রাখা হয়েছে। ভয় দেখানো হয় যে, পুলিশের কাছে গেলে শুভ্রার সহযোগীদের একই পরিণতি হবে।

এই ঘটনায় শুভ্রার সঙ্গী সন্তোষ কুমার থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার সিং একটি বিশেষ দল গঠন করে তদন্ত শুরু করেন।

পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে মূল হোতা প্রিয়াঙ্ক শর্মা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে সফল না হয়ে গ্রেফতার এড়াতে তিনি ভোপালের এইমস হাসপাতালের আইসিইউতে অসুস্থতার নাটক করে ভর্তি হন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ডাক্তারদের সাথে কথা বলে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করে ভারতের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

গ্রেফতারের সময় প্রিয়াঙ্কের পরিবার বাধা দিলেও পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। প্রিয়াঙ্ক ছাড়াও এই ঘটনায় জড়িত আরো পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরো তিনজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। আসামিদের ব্যবহৃত গাড়ি, মোবাইল ও একটি অবৈধ পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

টাকা যে অ্যাকাউন্টগুলোতে গিয়েছিল, সেগুলো দ্রুত ফ্রিজ বা লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং ওই টাকা ভুক্তভোগী শুভ্রা রঞ্জনকে ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Exit mobile version