বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) উদ্দেশ্যে গত কয়েকদিন ধরে সাদিপুর সীমান্তের ভারতীয় অংশে জড়ো করা ব্যক্তিদের শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। বুধবার ভোররাতে ভারতীয় ভূখণ্ডের শূন্যরেখা এলাকা থেকে ১০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সকালে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালালেও সেখানে কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যার পর বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তসংলগ্ন ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় কয়েকটি ট্রাকে করে দেড় শতাধিক মানুষকে আনা হয়। পরে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ১৫ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। এরপর থেকে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
তবে স্থানীয়দের দাবি, শূন্যরেখা থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়া হলেও ভারতীয় অংশে এখনও শতাধিক মানুষ অবস্থান করছেন। ফলে নতুন করে পুশইনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বেনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, রাতের টহল বৃদ্ধি এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তবে বিএসএফ শূন্যরেখা থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার পর বিজিবিও বিভিন্ন বাঙ্কার থেকে অতিরিক্ত সদস্য প্রত্যাহার করেছে। এরপরও সীমান্তে নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবির যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে কাউকে ফেরত পাঠানো হলে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো ধরনের নিয়ম না মেনে কাউকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
