★ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ঘোষিত হবে
★ পিআরের ভাষা হচ্ছে মার্কার মধ্যে ভোট দেবে, কে এমপি হবে জানে না
বৃষ্টি বাদল দিনে বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও আজকের এ সম্মেলন হচ্ছে গণতন্ত্রের সম্মেলন। সারা বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলকে উৎসাহিত করেছে। এটা শুধু বিএনপির সম্মেলন নয়, যে দেশে শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী আছে, ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রাম করতে করতে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটানোর কাজ করে গেছেন তারেক রহমানের কথাই বলেছি। দেশে গণতন্ত্র বিকশিত এবং প্রতিষ্ঠিত করতে তারেক রহমানের নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
তার নেতৃত্বেই এ দেশে উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধ হবেই হবেই ইনশাআল্লাহ। তারেক রহমান আছেন বলেই দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে। বৃষ্টি ভেজা এদিনে এই সম্মেলন নজির স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে বিগত অনেক বছর স্বৈরচারী শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনামলে কোন একটা মিলনায়তনেও সম্মেলন করার সুযোগ হয়নি। পুলিশি বাধা, ভয়ভীতি ও নিষেধাজ্ঞার কারণে উম্মুক্ত পরিবেশে রাজনীতি করতে সুযোগ হয়নি।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে চকরিয়া সরকারি কলেজ মাঠে উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, রাজনীতি বন্ধি ছিল কারাগারে, রাজনীতি নির্বাসনে ছিল লন্ডনে, রাজনীতি নির্বাসনে ছিল শিলংয়ে। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি বৃহৎ দেশের মানুষকে কারাগারে পরিণত করেছিল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। বর্তমানে উম্মুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশ গনতন্ত্রে হাসছে। গণতন্ত্রের মাধ্যমে এ দেশকে শক্তিশালী করছে। তথাকথিত ডামি নির্বাচন করে দেশকে ভোটাধিকার শূন্য রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। কিন্তু আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা এমন ভাবে সংস্কার করছি যাতে করে আগামী দিনে কেউ যেন স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে।
শেখ হাসিনার সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন তিনি বাংলাদেশের মানুষ নন। আওয়ামী লীগও প্রকৃত রাজনৈতিক দল নয়। এছাড়াও তিনি নিজের রাজনৈতিক অতীত স্মরণ করে বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আপনারা আমার চাইতে বেশি ভোটে আমার স্ত্রী হাসিনা আহমেদকে এমপি নির্বাচিত করেছিলেন।
এজন্য আমি ও আমার পরিবার আজীবন কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি। ইতিমধ্যে নির্বাচনের মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনের সময় সীমা ঘোষনা হয়ে গেছে। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে ঘোষিত হবে ইনশাআল্লাহ। এখন থেকে আপনারা ঘরে ঘরে যাবেন, ধানের শীষের পক্ষে সালাম দিবেন। গনতন্ত্রের ভাষা হচ্ছে মানুষ যাকে পছন্দ করবে প্রার্থী হিসেবে সে নির্বাচন করবে।
মানুষ যাকে ভোট দিবে সেই নির্বাচিত হবে। পিআর এর ভাষা হচ্ছে মার্কার মধ্যে ভোট দেবে, কে এমপি হবে জানে না। সেই পিআর বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করে নাই। তিনি দেশের সকল গণতান্ত্রিক দলগুলোকে একসঙ্গে বসারও এই সম্মেলন থেকে আহ্বান জানান।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এম মোবারক আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এডভোকেট হাসিনা আহমেদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামিম আরা স্বপ্না, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আবু সুফিয়ান, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী (খোকন মিয়া),
সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ইউছুফ বদরী, চকরিয়া পৌর বিএনপি সভাপতি নুরুল ইসলাম হায়দার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফখরুদ্দীন ফরায়েজী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুর রহিম, পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেফাজতুর রহমান চৌধুরী টিপু।
এছাড়াও বক্তব্য দেন জেলা শ্রমিকদল সভাপতি রফিকুল ইসলাম, জেলা যুবদল সভাপতি এডভোকেট ছৈয়দ আহমেদ উজ্জ্বল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এডভোকেট মোহাম্মদ ইউনুছ, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান ফাহিম প্রমুখ।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আয়োজিত এ সম্মেলনে চকরিয়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে হাজারো নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার নেতাকর্মীরা মিছিল ও শোভাযাত্রা নিয়ে সম্মেলনস্থলে যোগ দেন।
