parbattanews

সরকার এখনো জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করেনি : এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই সনদ’ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ডকুমেন্ট হলেও অনেকেই একে অপরের সাথে গুলিয়ে ফেলছেন, যার ফলে জনমনে বিভ্রান্তি ও একটা বিষয় নিয়ে সন্দেহের বেড়াজাল তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদকে যদি আমরা একটা আইনি ভিত্তির জায়গায় নিয়ে আসতে না পারি, সেক্ষেত্রে সেই জুলাই সনদ সেটা পূর্বেকার মতো তিন দলের রূপরেখার (৯১ সালের ঘটনা) মতো শুধুমাত্র একটা ইতিহাসের দলিল হয়ে থাকবে। যার কোনো কার্যকারিতার জায়গা থাকবে না।

আমরা একটা অকার্যকর অপূর্ণাঙ্গ মৌলিক সংস্কারবিহীন জুলাই সনদ চাই না। একই সাথে জুলাই ঘোষণাপত্র সেটাকে বাস্তবায়নযোগ্য করা সেই বাস্তবায়নের ভিত্তিতেই সামনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার করে জুলাই সনদকে কার্যকর করা, আইনি ভিত্তি দান করা, এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণ করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে আমরা অগ্রসর হতে চাই। ৩৬ জুলাইয়ের মধ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র এবং সনদপত্র’ বাস্তবায়ন চাই।

আজ বুধবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে আলোচনায় বিকেলের বিরতিকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার হোসেন বলেন, সংস্কারের যে আলাপগুলো করছি, সেগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। সেই অনিশ্চিত একটা ডকুমেন্টে জাতীয় নাগরিক পার্টি সিগনেচার করা না করা বা আর কারো সিগনেচার করা না করা, সেটা মোটা দাগে কোনো ধরনের কার্যকরিতার জায়গা তৈরি করে না।

খোলাসা করে বলছি, জুলাই ঘোষণাপত্রের ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর আমরা শহীদ পরিবারসহ একত্রিত হয়েছিলাম। সরকার সময় বেঁধে দিয়েছিল, পরবর্তীতে আবার সময় তারা বৃদ্ধি করেছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করেনি।

এনসিপি আহবায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র জারি না করেন, তাহলে আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে সকল শরিকদের সাথে নিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল পক্ষকে সাথে নিয়ে আমরা জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করব।

জুলাই ঘোষণাপত্র জুলাই মাসের মধ্যে সরকারকে প্রদান করতে হবে। এটা আমাদের জোর দাবি। কিন্তু জুলাই সনদের মধ্যে ঐকমত্য কমিশনের সংস্কারের প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। সকল প্রস্তাবনাগুলো যদি জুলাই সনদে উল্লেখ করা না হয়, যদি কিছু কিছু বিষয় উল্লেখ থাকে, আর কিছু কিছু বিষয়কে যদি অনুল্লেখ রাখা হয়।

আর জুলাই সনদের যদি একটা আইনি ভিত্তি না থাকে এবং কমিশন যে রকম জুলাই সনদের একটা প্রাথমিক খসড়া দিয়েছে, সেখানে দুই বছরের সময়সীমার কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে আমরা যে বিষয়গুলোতে একমত হলাম, সেগুলোকে সাথে সাথে কার্যকর করার পদ্ধতি সেখানে বাতলানো না থাকে,

জুলাই সনদকে যদি আমরা একটা আইনি ভিত্তির জায়গায় নিয়ে আসতে না পারি, সেক্ষেত্রে সেই জুলাই সনদ সেটা পূর্বেকার মতো তিন দলের রূপরেখার মত শুধুমাত্র একটা ইতিহাসের দলিল হয়ে থাকবে। যার কোনো কার্যকারিতার জায়গা থাকবে না। আমরা একটা অকার্যকর অপূর্ণাঙ্গ মৌলিক সংস্কারবিহীন জুলাই সনদ চাই না।

‘একটা কার্যকর, একই সাথে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের সকল বিষয়কে ধারণ করে আইনি ভিত্তির সাথে এবং সাথে সাথে বাস্তবায়নযোগ্য এমন একটা জুলাই সনদ জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি দাবি বলে জানান তিনি।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, জুলাইয়ের ঘটনা প্রবাহের সময়কাল ৩৬ জুলাইয়ের মধ্যেই সরকারকে জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করতে হবে এবং জুলাই সনদের কথা বলছি, যেটা মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে হলেই আমরা সেখানে সিগনেচার করব।

বলতে চাই, জুলাই ঘোষণাপত্রের ব্যাপারে জাতীয় নাগরিক পার্টি এক বিন্দু ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। একই সাথে জুলাই ঘোষণাপত্র সেটাকে বাস্তবায়নযোগ্য করা, সেই বাস্তবায়নের ভিত্তিতেই সামনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার করে জুলাই সনদকে কার্যকর করা, আইনি ভিত্তি দান করা, এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণ করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে আমরা অগ্রসর হতে চাই।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ইতোমধ্যেই সতর্ক করে বলেছেন, সরকার যদি ৩৬ জুলাইয়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এনসিপি তাদের শরিক ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সব পক্ষকে নিয়ে নিজস্বভাবে ঘোষণাপত্র ঘোষণা করবে।

Exit mobile version