parbattanews

সরকার শুধু ত্রাণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করবে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় অবিরাম টানা ভারিবর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বেড়িবাঁধ ভেঙে তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লক্ষ লক্ষ ​মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চরম দুর্যোগ পরিস্থিতিতে  বন্যাকবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সরকার সবসময় পাশে রয়েছে। দুর্গত এলাকায় নিয়মিত ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো হচ্ছে। সরকার শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বন্যায় যাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে।

মঙ্গলবার (১৪জুলাই) বেলা ২টায় চকরিয়া ও বিকেল সাড়ে ৪টায় পেকুয়া উপজেলায় বন্যাদুর্গত এলাকায় বানবাসি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণে কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আপনাদেরকে সালাম দিয়েছেন এবং আপনাদের সন্তান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও আপনাদেরকে সালাম জানিয়েছেন। আপনাদের সন্তান দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। আগামী দু’একদিনের মধ্যে তিনি আপনাদের মাঝে দেখতে আসবেন। সরকার বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে এলাকার কৃতী সন্তান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায়ও আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন,বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে না আসা পর্যন্ত সরকার তাদের পাশে থাকবে। পাশাপাশি এনজিও ঋণের কিস্তি আপাতত স্থগিত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য ও লবণ চাষিদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এছাড়া ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ির তালিকা প্রস্তুত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

বন্যার পানিতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে থাকা মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা নিজেদের অসহায় মনে করবেন না। সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে এবং পাশে থাকবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে এবং সরকার পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে। কৃষি খাতের ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উঁচু স্থানে বীজতলা তৈরি করে কৃষকদের মাঝে ধানের চারা বিতরণ করা হবে, যাতে তারা দ্রুত কৃষিকাজে ফিরতে পারেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য হাস-মুরগী, পশুপালন খাতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দুর্যোগের শুরুতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হলেও এখন ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী প্রথমে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে পাড়াধসের বুড়ির দোকান ও পহরচাঁদা এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি পেকুয়া উপজেলার নন্দীরপাড়, মগনামা এবং টৈটং ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে প্রতিমন্ত্রী বন্যাদুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে ও ত্রাণ বিতরণে মন্ত্রীর সাথে ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: জিয়াউদ্দীন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বরত নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার, পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলাম, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আরিফুর রহমান, পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রেস সচিব সাংবাদিক ছফওয়ানুল করিম,চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার, বরইতলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: ছালেকুজ্জমান, বরইতলী বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহীন মুরাদ, মঈনুল ইসলামসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

Exit mobile version